ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি দেশবাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’-এর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন সৎ, নির্ভীক ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই সমাজকর্মী জানান, কয়েক দিন অসুস্থ থাকার সময় তিনি ভারতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে যেসব দেশ ভারতের তুলনায় পিছিয়ে ছিল বা কাছাকাছি অবস্থানে ছিল, তাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে গেছে।
ওয়াংচুকের মতে, দেশের বর্তমান উন্নয়নধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা কঠিন হবে।
পরিবর্তনের দাবিতে গত দুই মাসে যারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ সময় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তবে শুধু মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই শিক্ষা খাতের সমস্যার সমাধান হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা কাটানো না গেলে দেশের ভবিষ্যৎও বাধাগ্রস্ত হবে।
সুশাসনের ঘাটতিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমস্যা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমস্যা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীনরা দলভেদে ভিন্ন হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা কণ্ঠ অনেক সময় দমন করেছে।
২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দুর্নীতি ও অবিচারের সমস্যার যথেষ্ট উন্নতি হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা আরও প্রকট হয়েছে।
ভারতের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, একটি শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি করা যেতে পারে।
ভারতের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার তথ্যের উল্লেখ করে ওয়াংচুক বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ থাকা দেশের শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়নপ্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন চিন্তা ও করণীয় নির্ধারণে দেশের মেধাবী ও সৎ নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান বলেও জানান ওয়াংচুক। তিনি বলেন, শুধু বুদ্ধিজীবী নয়, বরং সৎ, নির্ভীক ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকা নারী-পুরুষদেরও এই আলোচনায় যুক্ত করা প্রয়োজন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকা থেকে এমন অন্তত একজন যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে গিয়ে সরাসরি মানুষের মতামত শোনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।