গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাইপাইলে প্রকল্পের সমন্বয় সভা শেষে তিনি এ কথা জানান।
মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস লেনের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই দুটি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্মাণকাজের কারণে জনদুর্ভোগ কমাতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব।
তিনি বলেন, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রেখেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাচিত কয়েকটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর। রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হলেও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বিদেশি ঋণের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। অর্থায়ন করছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (চায়না এক্সিম ব্যাংক)।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। এর সঙ্গে মোট ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১৪টি র্যাম্প থাকবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার এবং আশুলিয়া-ধউর বাঁধ সড়ক বরাবর ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক ও ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরাসরি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে আন্তঃসীমান্ত সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে দেশের সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক আরও উন্নত হবে।