পরিকল্পিত, টেকসই ও আধুনিক নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে 'চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২৫-২০৫০)'-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। শহরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এই পরিকল্পনায় এবার সরাসরি মতামত দিতে পারবেন নগরবাসীও।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় চউকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি জানান, আগামীকাল ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে, এরপরই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত রূপ পাবে। আগ্রহীরা সরাসরি চউক ভবনে উপস্থিত হয়ে অথবা ডিজিটাল ওয়েব-জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবেন।
চউক চেয়ারম্যান জানান, ১৯৬১, ১৯৯৫ ও ২০০৮ সালের পর এটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। তার ভাষায়, একটি এলাকার সমস্যা সেই এলাকার মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন, তাই নাগরিকদের যৌক্তিক মতামত যাচাই করেই চূড়ান্ত করা হবে পরিকল্পনাটি।
২০২৫ থেকে ২০৫০ সাল মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী পৌরসভা ও উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
চউক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রাম তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, খাল ও জলাধারের বড় অংশ হারিয়েছে। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে নতুন খাল খনন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং ভূমি মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন বাস্তবায়নের মতো একাধিক নতুন উদ্যোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও রাউজানসহ আশপাশের এলাকাকে সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আবাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মোট ১৯টি খাতে ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি ১০১টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রাখা হয়েছে।
নগরীর ওপর চাপ কমাতে খসড়া পরিকল্পনায় 'পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল' বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে 'ওয়ান সিটি টু টাউন' ধারণার অংশ হিসেবে আনোয়ারার জন্য পৃথক অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান রাখা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর এলাকায় ৩০.৪ কিলোমিটার এবং বৃহত্তর এলাকায় ১১১.৩ কিলোমিটার নতুন খাল খননের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভূমি মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে 'ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইটস (টিডিআর)', 'গাইডেড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' ও 'ট্রাইপার্টাইট মডেল' ব্যবহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে খসড়ায়।