শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬ ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘প্রতিরোধ না করলে’ দেশ এখনও পাকিস্তান থাকত: স্পিকার
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ পিএম  (ভিজিট : ২২)
পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মুক্তিযুদ্ধকে কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, ‘বাঙালির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন আলাদাভাবে ‘বিদ্রোহ করে জনগণকে সংগঠিত করেছিল’।

শনিবার ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

স্পিকার বলেন, “ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করত, তাহলে এই দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত।”

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিজের কাছে ‘অত্যন্ত প্রিয় একটি নাম’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, কমিশন পাওয়ার দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ নাম তিনি হৃদয়ে ধারণ করবেন।

সেনাবাহিনীতে যোগদান, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে আসা, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং নিজের সেনাজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন।

তিনি বলেন, “এখন ৮২ বছর বয়স হয়েছে। মনে হয় যে নিজের ইচ্ছায় কিছুই করি নাই। উপরওয়ালাই পরিচালিত করেছেন। ভাগ্যে যা লেখা আছে, সেভাবেই সময় যাচ্ছে।”

ফুটবল থেকে সেনাবাহিনীতে

হাফিজ উদ্দিন বলেন, সেনাবাহিনীতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। ফুটবল নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। জগন্নাথ কলেজে প্রভাষকের চাকরিও পেয়েছিলেন। একই সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বাবা তাকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় থাকার সময় ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি মেজর মোহাম্মদ মালিক তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

“তিনি দুই বছর ধরে আমার পেছনে লেগে আছেন, ‘আর্মিতে জয়েন করো, আর্মিতে জয়েন করো, নাথিং লাইক আর্মি’। একসময় মনে হল, কত পরীক্ষা দেব, কতবার পড়াশোনা করব। ফুটবল খেলেও ক্লান্ত। যাই, সেনাবাহিনীতে যাই।”

শুরুতে সেনাবাহিনীর এডুকেশন কোরে কমিশন পেলেও সেটির কাজ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা ছিল না।

স্পিকার বলেন, “আর্মিতে আমার কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনও নাই। ভেবেছিলাম যে মিলিটারি একাডেমি কাকুলে গিয়ে বোধহয় পড়াতে হবে ছাত্রদেরকে। সেখানে রোমান উর্দু বলে একটা ভাষা আছে, এটাও শেখাতে হবে সৈনিকদেরকে। কিছু না বুঝেই ফুটবল ভালোভাবে খেলতে পারব, এটা চিন্তা করে আর্মিতে জয়েন করলাম।”

প্রশিক্ষণে গিয়ে এডুকেশন কোরে তার সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেখে মন খারাপ হয়েছিল তুলে ধরে স্পিকার বলেন, একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

তখন তার প্লাটুন কমান্ডার, তৎকালীন আর্টিলারির মেজর রাহাত আমানুল্লাহ ভাটি, তাকে এডুকেশন কোরে না গিয়ে যুদ্ধরত কোনো শাখায় যোগ দেওয়ার আবেদন করতে বলেন।

পরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান, বলেন তিনি।

কাকুলের মাঠে জিয়ার সঙ্গে পরিচয়

পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলের মাঠে ফুটবল খেলার সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি তুলে ধরেন স্পিকার।

তিনি বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। তিনি দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ছিলেন। রেফারি হুইসেল বাজিয়ে তাকে ডাকেন।

“হাফপ্যান্ট পরা, সাদা শার্ট, চোখে একটা সানগ্লাস। আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে বললেন, ‘আই অ্যাম মেজর জিয়া। তুমি পাস আউট করে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যাবে। মাই ব্যাটালিয়ন ইজ নোন অ্যাজ সিনিয়র টাইগারস। সেনাবাহিনীর সবচেয়ে চ্যাম্পিয়ন ফুটবল টিম সিনিয়র টাইগারস’।”

জিয়াউর রহমানের আন্তরিক আচরণে তিনি ‘মোহিত’ হয়েছিলেন তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “একজন ক্যাডেটের সঙ্গে একজন প্লাটুন কমান্ডার এত আন্তরিকভাবে কথা বলছেন, এটাতে আমি মোহিত হয়ে গেলাম। তিনি আমার কোর্সে না, অন্য একটা কোর্সে প্লাটুন কমান্ডার, ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। মেজর জিয়ার কথাটা আমার মাথার মধ্যে গেঁথে রইল।”

তার কোম্পানি কমান্ডার মেজর শাহেদ জান তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আরেকটি ব্যাটালিয়নে নিতে চেয়েছিলেন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাসিং আউটের’ আগে পছন্দ দেওয়ার সময় প্রথম ইস্ট বেঙ্গল বেছে নিয়েছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, কোম্পানি কমান্ডার তার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে জানতে চেয়েছিলেন, নতুন একটি রেজিমেন্টে গিয়ে তিনি কী পাবেন এবং সেখানে তাকে কে চিনবে?

জবাবে তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা বাঙালি হিসেবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

এরপর কোম্পানি কমান্ডার তাকে অর্ডন্যান্স কোরে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, তবে কোর্সে ভালো ফল করায় তার পছন্দ মঞ্জুর হয়, বলেন স্পিকার।

১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরের এক শীতের বিকালে যশোর রেলস্টেশনে নেমে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিতে উৎসাহিত করার জন্য জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন তিনি।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, এ দেশের মহান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তার কথাতেই আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছি, অন্যদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে।”

সত্তরের নির্বাচন ও স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে স্পিকার বলেন, সেটি হয়েছিল ছয় দফার ভিত্তিতে। তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সম্পদ ও সুযোগের সমবণ্টন ছিল না। সেই বৈষম্য নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল।

তিনি বলেন, “পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশকে যেভাবে তত্ত্বাবধান করে, যেভাবে সমৃদ্ধ করে, পূর্ব পাকিস্তান ছিল অবহেলিত। পূর্ব পাকিস্তানে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না।

“তখনকার আন্দোলনটির নাম ছিল ‘সাম্যের আন্দোলন’। দুটি অঞ্চলের মধ্যে সমতা ছিল না। সম্পদের সমবণ্টন ছিল না। এজন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ক্ষুব্ধ ছিল। এটিকে সম্বল করে আওয়ামী লীগ তৎকালীন নির্বাচনটি জিতেছিল।”

এরপর শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে স্পিকার বলেন, “এমনকি যখন ক্র্যাকডাউন করল পাকিস্তান আর্মি ২৫ মার্চ নিরীহ বাঙালিদের উপরে। অব্যবহিত পূর্বে প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন সাহেব, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়েছেন। গিয়ে বলেছেন যে পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে। দেশের মানুষ স্বাধীনতা চায়, এখনও সময় আছে, আপনি স্বাধীনতা ঘোষণা করুন।

“শেখ মুজিবুর সাহেব বললেন যে না, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না। পাকিস্তান ভাঙাতে আমার কোনো অবদান থাকুক, এটি আমি চাই না। সুতরাং স্বাধীনতার ঘোষণা আমি দিব না। স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। পাকিস্তান ক্র্যাকডাউন চালালো। লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উদভ্রান্ত হয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পাক বাহিনী মেশিনগান, মর্টার, কামান দিয়ে নিরীহ মানুষ গুলি করে হত্যা করছে।”

এ সময় যেকোনো জাতি অবদমিত হয়ে আত্মসমর্পণ করতে পারত মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “সেই মুহূর্তে জনগণের জীবন এবং নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

“এই সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান। এটি হল প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে এসেছে যে যুদ্ধ করবে।”

‘এটি একটি জাতির যুদ্ধ’

মুক্তিযুদ্ধকে কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ।

তিনি বলেন, “১৯৭১ যারা দেখে নাই তারা দুর্ভাগা। আমরা ভাগ্যবান, ১৯৭১ সাল দেখতে পেয়েছি। আমাদের তো মাত্র পাঁচটা ব্যাটালিয়ন ছিল। চার হাজার সৈনিক। মুক্তিবাহিনী ছিল প্রায় লক্ষের মত।”

ছাত্র, শিক্ষক, রিকশাচালক, দোকানদার, বাসের চালক, সহকারী, পিয়নসহ সব পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। কিন্তু এই কথা ইতিহাসে নাই।”

স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যুদ্ধ ও যোদ্ধাদের অবদান যথেষ্টভাবে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন হাফিজ উদ্দিন।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যে দলটি ক্ষমতায় আসল, তারা বলল যে ৭ই মার্চে একটা ভাষণ শুনেছি, ওই ভাষণেই দেশ স্বাধীন। মাঝখানে যে যুদ্ধ, হাজার হাজার মানুষ জীবন দিল, লক্ষ মানুষ আত্মাহুতি দিল, তার কোনো উল্লেখ নাই স্বাধীনতাযুদ্ধের পরবর্তীকালের ইতিহাসে।”

রাজনীতিকরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব ‘হাইজ্যাক’ করেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না, নিজেরা এবং নিজের দলনেতাকে ছাড়া। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হল, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ। একটি জাতির যুদ্ধ।”

পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে পরাজিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“একটা আর্মি আরেকটা আর্মির সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে চেয়েছে। এই কারণেই পরাজিত হয়েছে। জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করা কোনো সামরিক বাহিনীর কাজ নয়।”

‘কিসের স্পিকার, কিসের প্রধানমন্ত্রী’

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোনো সৈনিককে এখনও রাস্তায় দেখলে আবেগাপ্লুত হন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন।

তিনি বলেন, “এখনও এই ৮২ বছর বয়সে, স্বাধীনতার এত বছর পর, রাস্তা দিয়ে যখন দেখি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সৈনিক হেঁটে যাচ্ছে, মার্চ করে যাচ্ছে, ট্রাকে বসে যাচ্ছে, ওই ক্যাপটা দেখলে মনটা উদাস হয়ে যায়।”

এরপর তিনি বলেন, “কিসের স্পিকার, কিসের প্রধানমন্ত্রী, কিসের রাষ্ট্রপতি। ‘নাথিং লাইক ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। নাথিং লাইক বিইং এ সোলজার’। এটা হল আমার অনুভূতি।”

একাত্তরে তৎকালীন ১৮টি জেলার মধ্যে মুক্তিবাহিনী একক প্রচেষ্টায় সিলেট জেলা শহর দখল করেছিল বলে দাবি করেন স্পিকার।

তিনি বলেন, ভারতীয় বাহিনী ২২ নভেম্বর থেকে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর বড় সেনাবাহিনী, কামান, বিমান ও ট্যাংক নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।

“তবুও এই ১৮টি জেলার মধ্যে একটি মাত্র জেলা মুক্তিবাহিনী একক প্রচেষ্টায় দখল করেছে। সেটা হল সিলেট জেলা শহর। দখল করেছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়ন, সিনিয়র টাইগারস।”

১৫ ডিসেম্বর এমসি কলেজ এলাকায় সংঘটিত যুদ্ধে তিনি দুটি কোম্পানির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান।

“সারাদিনব্যাপী যুদ্ধের পর আমার কোম্পানিরই আটজন শহীদ হয়েছিল।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউদ্দিনকে ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে স্পিকার বলেন, স্বাধীনতার পর ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে চিঠি দিয়েছিলেন।

সে চিঠির বরাতে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আপনি ভারতের সঙ্গে কী চুক্তি করেছেন, সেটি জনসমক্ষে প্রকাশ করুন। নতুবা আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবে। আপনাকে ছাড়াই তো আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি। আবারও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।”

এ চিঠির পর জিয়াউদ্দিনকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, বলেন তিনি।

রাওয়া ক্লাবে এলে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন বলে মনে হয় মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুরোনো সহযোদ্ধা ও সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দের সঙ্গে অন্য কোনো সম্মানের তুলনা হয় না।

তিনি বলেন, “‘দিস ইজ আওয়ার হোম’। সামরিক বাহিনী আমরা সৃষ্টি করেছি।”

অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রাওয়া চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্যের শেষে স্পিকার বলেন, “ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতায় গৌরবময় অবদান রেখেছে—এ কথাটি আপনারা কি স্বীকার করেন? যারা স্বীকার করেন, তারা হ্যাঁ বলুন।”

উপস্থিত ব্যক্তিদের সাড়া পাওয়ার পর তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে।”








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]