রমজানের শুরুতে সবজির দাম চড়া থাকলেও এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত সপ্তাহে ২৮০ টাকার মুরগী এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ সপ্তাহে কাঁচা বাজারে আলু ২০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, সিম ৫০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, সজনে ২০০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
লক্ষ্মীবাজারের কয়েকজন সবজি বিক্রেতা জানান, দাম অধিকাংশ জিনিসের কমই আছে। যদিও দু-একটা জিনিসের দাম ওঠা-নামার মধ্যে রয়েছে।
নারিন্দা কাঁচা বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, সবজির দাম এই বছর রমজানে আসলেই কম। হুড়হুড় করে এ বছর আর দাম বাড়েনি।
রোজার শুরুতে চড়া লেবুর দাম গত সপ্তাহে কিছুটা কমেছিল। তবে এ সপ্তাহে দাম আবার বেড়েছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীবাজার কাঁচা বাজারের বিক্রেতা হাফিজ বলেন, লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। ফলন নেই, এ জন্য দাম বৃদ্ধি। বৃষ্টি পড়লে আস্তে আস্তে কমে যাবে। এ সময় এখানে এক ক্রেতাকে দাম জিজ্ঞেস করে বেশি দাম শুনে চলে যেতে দেখা যায়।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা; যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ টাকা। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গত সপ্তাহের ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ২২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
কক মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩৪০ টাকা চাওয়ায় পুরান ঢাকার ষাটোর্ধ্ব এক ক্রেতা দোকানিকে উদ্দেশে বলেন, দাম বাড়ছে, ঈদের পরেই খাই। পরে তাকে পাশের আরেকটি দোকান থেকে কেজি দরে মুরগির পা কিনে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কি করবো? যে দাম, এ জন্য মুরগির পা নিয়ে যাই, মুরগির দাম কমলে কিনবো।’
অন্যান্য মাংসের মধ্যে গরুর মাংসের দাম কেজিতে আবারও ৫০ টাকা বেড়ে ৮৫০ টাকা হয়ে গেছে।
দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রায়সাহেব বাজারের এক গরুর মাংস বিক্রেতা জানান, কিছু করার নেই। গরু কম আসে। এ জন্য দাম হয়তো আরও বাড়বে। খাশির মাংসের দাম একই বাজারে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ১ হাজার ৩০০ টাকা; যা গত কয়েক সপ্তাহ ১ হাজার ২৫০ টাকা ছিল।
মাছের বাজারেও কিছুটা দাম বৃদ্ধি দেখা গেছে। রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা জয়নাল জানান, সব মাছেই কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এখন তেলাপিয়া মাছ কেজি প্রতি ২২০ টাকা, রুই ছোটটা ২৬০ টাকা, বড়টা ৩২০ টাকা, পাঙাশ বড়টা ২২০ টাকা, ছোটটা ১৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেকটারই কেজিতে কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে মুরগির ডিমের দাম আগের মতোই দেখা গেছে; যা ডজন প্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা খবির জানান, ডিমের দাম এখনও আগের মতো আছে। বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে। দেশি পিঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে; যা গত সপ্তাহে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে রসুনের দাম বেড়েছে অনেকটা। ১৮০ টাকার রসুন কেজিতে এখন ২১০ টাকা।
পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী জানান, এসব পণ্যের দামে এখন স্বস্তি আছে। যদিও দু-একটা পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে অধিকাংশ কমই আছে।
রায়সাহেব বাজারের মোর্তজা স্টোরের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের দোকানে সাধারণ মানের আটাশ চাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা এবং মিনিকেট ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো মানের নাজিরশাইল চালের জন্য গুনতে হচ্ছে ৮৬ টাকা। এছাড়া সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম কেজি প্রতি ১৪৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তেল ও ডালের দামের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা এবং সরিষার তেল ২২০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, মুগ ডাল ১৭৫ টাকা এবং বুটের ডাল ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোলা ৯০ টাকা এবং ডাল ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
মসলার বাজারে বেশ চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি কেজি এলাচ ৩ হাজার ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং জিরা ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শুকনো মরিচ ২৮০ টাকা, হলুদ ৩০০ টাকা ও আদা ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রান্নার অপরিহার্য উপাদান চিনির কেজি ১৩০ টাকা এবং রসুন ২২০ টাকা। সাধারণ আটা ও ময়দা যথাক্রমে ৪৫ ও ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। ১২৫ গ্রামের একটি স্যাভলন সাবানের খুচরা মূল্য রাখা হচ্ছে ৭৫ টাকা।