নতুন দিন। নতুন বছর। নতুন করে চিন্তা-ভাবনা। আজকের ভোরের সূর্যটা নতুন বছরের। আজকের সূর্য অন্যদিনের মত হলেও এট নতুন বছরের সূর্য। নতুনত্ব নিয়ে পথচলা। স্বাগত নতুন সূর্য। আগামীর পথ হয়তো দেখাবে নতুন দিগন্ত, এই প্রত্যাশা সকলের। ২০২৪ সুন্দর ও শান্তিময় হবে এই প্রত্যাশা সকলের । স্বাগত নতুন বছর। ঘড়ির কাঁটা থেমে নেই। প্রতিটি মুহূর্তেই জীবন থেকে একটি একটি করে সেকেন্ড হারিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তেমনি পরিসমাপ্তির হলো ২০২৩ এর। ক্যালেন্ডার বদলানোর সময় হয়েছে। ২০২৩ সালের নতুন সূর্যকে স্বাগত জানানোর সময় বাংলাদেশ ছিল বেশ দৃঢ় অবস্থানেই। দানবীয় রূপে আসা মরণব্যাধি করোনাভাইরাস সফলভাবে মোকাবিলার পর অর্থনীতির চাপ সচল রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। এদিকে নতুন বছর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পৃথক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য মঙ্গল কামনা করেছেন।
তবে নতুন বছরের শুরুতেই সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে নিবাচনী চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে অস্তিত্ব রক্ষায় পড়েছে দেশে একাধিকবার ক্ষমতায় থাকা দল বিএনপি। দলটির প্রধান বেগম খালেদা জিয়া মামলার বেড়াজালে আর গুরুতর অসুস্থ। খালেদা জিয়ার পরে দলটির হাল জিনি ধরবেন তার (খালেদা জিয়া) ছেলে তারেক রহমানের মাথায় ঝুলছে মামলা আর তিনি অবস্থান করছেন লন্ডনে। দলে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। মহাসচিব মির্জা ফকরুলসহ প্রথম সাড়ির নেতারা কারাগারে। এমতাঅবস্থায় অস্তিত্ব রক্ষায় যেন হিমশিম খাচ্ছে দলটি।
আজ ভোরের পূর্বাকাশে দেখা নতুন বছরের সূর্য। নতুন আশায় বুক বেঁধে নতুন করে পথ চলার ব্রত। দেখতে দেখতে কেটে গেল আরেকটি ঘটনাবহুল বছর। নানা কাজের ফিরিস্তি লেখা নিত্যসঙ্গী হয়ে হালখাতাটি হয়ে পড়বে সাবেক। আজ মহাকাল সেভাবেই মুছে দেবে ২০২৩ কে। ‘যেতে নাহি দিব’-এ চিরন্তন বিলাপধ্বনীর ভেতরে আবহমান সূর্য একটি পুরনো দিবসকে আজ কালস্রোতের উর্মিমালায় বিলীন করে পশ্চিম দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। বর্ষবরণের আবাহন রেখে কুয়াশামোড়া পান্ডুর সূর্য আজ বিদায় নেবে মহাকালের যাত্রায়। সময় হলো খ্রিস্টীয় ২০২৩ সালকে বিদায় বলার। বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলোও বিপর্যস্ত, তখনো বর্তমান সরকারের অসামান্য কৃতিত্বে দেশের অর্থনীতির চাকাকে শুধু সচল রাখাই নয়, স্বপ্নের পদ্মা সেতু, দেশের মেট্রোরেলের উদ্বোধনের পাশাপাশি বড় মেগা প্রকল্পগুলো সফল বাস্তবায়ন গোটা বিশ্বকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশ আবারও তার নিজস্ব সক্ষমতার জানান দিয়েছে। সারাবিশ্বের সামনে উন্নয়ন-সাফল্যের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ এক বিস্ময়ের নাম। সাফল্যের মুকুটে একের পর এক যোগ হয়েছে অনেক অগ্রগতির পালক। গত ১৫ বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর নাম এখন বাংলাদেশ। এদিকে নতুন বছরের প্রথমের নির্বাচন। সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। অপেক্ষা কেবল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসমুক্ত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির দেশ গড়ার। আজ সোমবার থেকে নতুন বছরে, নতুন জীবনে যাত্রা করবে এ দেশের মানুষ। শুরু হবে আরও একটি নতুন বছর ২০২৪। স্বাগত ২০২৪, বিদায় ২০২৩।
পুরনো গ্লানিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর বরণে বিশ্বজুড়ে ছিল নানা আয়োজন। নিজেদের মতো করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ২০২৪ সালকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশিরাও। রাত বারোটা এক মিনিটেই শুরু হয় থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ভোরের আবির্ভাব। আনন্দ আর শান্তির বার্তা নিয়ে পূর্ব আকাশে কুয়াশা ভেদ করে উঠে আসে নতুন দিনের সূর্য। জানান দেয় ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনের।
অন্যদিকে রঙ-বেরঙের ফানুস উড়িয়ে, আলোকসজ্জা ও আতশবাজির মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষ-২০২৪ বরণ করেছে রাজধানীবাসী। রাত ১২টা এক মিনিটে আতশবাজি ও ফানুসে আলোকিত হয়ে ওঠে রাজধানীর আকাশ। প্রতিটি বাড়ির ছাদে ছাদে রঙ- বেরঙের ফানুস উড়িয়ে নতুন বছরকে বরণ করছে আবালবৃদ্ধবনিতা। আনন্দের জোয়ারে ভাসে রাজধানীবাসী। এদিকে কোনো বাধাই আনন্দতে ভাগ বসাতে পারেনি রাজধানীবাসীর। প্রতিটি ছাদে ছাদে চলে বারবি কিউ পার্টি। উৎসবে জোয়ারে শীত কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পুরনো গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করতে প্রতিটি ছাদে ছাদে চলে উৎসবের প্রতিযোগিতা।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল রাজধানী: ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রাজধানী। রাস্তার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বসানো হয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর চেকপোস্ট। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, নিউমার্কেটসহ রাজধানীজুড়ে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সোয়াত সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বরে ডগ স্কোয়াডের পাশাপাশি পুলিশ-র্যাবের অত্যাধুনিক ভারি অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। হাতিরঝিল, রমনা, টিএসসিসহ বিনোদন স্পষ্টগুলোতে লোক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতা। ছিল নির্বাচনি আমেজও। পুলিশ জানায়, স্বতঃস্ফুর্তভাবে উৎসব পালনে রাজধানীর নিরাপত্তা ও আইন-শৃংখলার স্বার্থে রাস্তার মোড় ও ফ্লাইওভারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। আতশবাজি, অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালানোর মাধ্যমে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা বা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি যেন না হয় সে জন্য সক্রিয় ছিল পুলিশ। পাপশাপাশি পুলিশের টহল ও সাদা পোষাকে গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।
এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহাদাত হোছাইন জানান-বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে এসেছেন লাখো পর্যটক। বছরের শেষ দিনে সমুদ্রসৈকতে সমবেত হয়েছিলেন তারা। পড়ন্ত বিকালে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পর্যটকদের কোলাহল ও পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল চারদিক। বিকালে লাল সূর্য যখন ধীরে ধীরে সমুদ্রের বুকে অস্তমিত হচ্ছিল, তখন সবাই মেতে ওঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। হাত নেড়ে বিদায় জানান বছরের শেষ সূর্যকে। কেউ বাবা-মাকে নিয়ে আবার কেউ প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে গোসলে নেমেছেন সাগরের নোনাজলে। বছরের শেষ সূর্যাস্তকে স্মৃতিময় করে রাখতে কেউ মোবাইলে ও আবার কেউ ক্যামেরায় বন্দি করেছেন। লাখো মানুষের স্রোতে মিলনমেলায় রূপ নেয় সমুদ্রসৈকত। বিকালে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, সমুদ্রেসৈকতে øান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন পর্যটকরা। কেউ টায়ার টিউবে গা ভাসাচ্ছেন, কেউ জেটস্কি নিয়ে সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, কেউবা আবার ঘোড়া ও বিচ বাইকে উঠে সৈকতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতে ঘুরেছেন। এছাড়া সেন্টমার্টিন, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামু বৌদ্ধপল্লি, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঘুরেছেন কেউ কেউ।