বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


চাঁদা না দেওয়ায় ধর্ষণের শিকার হন নারী পর্যটক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩২ পিএম  (ভিজিট : ৫০২)
চাঁদা না দেওয়ায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী পর্যটক। ওই নারীকে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করেন মো. আশিকুল ইসলাম ও তার চক্রটি।

আজ সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। গতকাল রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা আশিকুলকে গ্রেফতার করা হয়।

মঈন বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজারে গণধর্ষণের শিকার হন এক নারী। ওই ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। 

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম ও তার স্বামীর সঙ্গে তাদের ৮ মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে। শিশুটি জন্মগতভাবে হার্টে ছিদ্র থাকায় তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। শিশুটির চিকিৎসার অর্থ সংকুলানের আশায় স্বামীসহ কক্সবাজারে অবস্থান করছিল পরিবারটি। তারা বিত্তবান পর্যটকদের নিকট হতে অর্থ সাহায্য চাইতেন। এ সময় তিনি অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আশিকুলের সঙ্গে ওই নারীর ধর্ষণ হওয়ার আগের দিন পরিচয় হয়। তারা ওই পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ভিকটিম ও তার পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাবণী বীচ এলাকার রাস্তা হতে ভিকটিমকে সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে মো. আশিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে ধর্ষণ ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে আটক রেখে স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

ঘটনার দিনের বর্ণনায় র‌্যাব জানায়, অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী র‍্যাব-১৫ এর নিকট তার স্ত্রীকে উদ্ধারে সহায়তা চান। পরে র‍্যাব ভুক্তভোগীর স্বামীকে নিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ও একপর্যায়ে ভুক্তভোগী উদ্ধার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে জিম্মি করার সহযোগিতার অভিযোগে জিয়া গেস্ট হন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেফতার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন জানায়, এ ঘটনা ব্যাপকভাবে স্থানীয় পর্যায় এবং মিডিয়াতে জানা জানি হলে ধর্ষণকারীকেদের গ্রেফতার করতে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে শনাক্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার ২ দিন পর কক্সবাজার হতে একটি এসি বাসে করে আশিকুল ঢাকায় চলে আসে। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আশিকুল ধর্ষণ এবং চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, আশিক কক্সবাজার পর্যটন এলাকার ৩০-৩৫ জন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মূল হোতা। সে ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার পর্যটক এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত।

তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এখনও আমরা তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় পাইনি। তবে সুনাম-খ্যাতির জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নেতা কর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]