প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:০৬ পিএম (ভিজিট : )
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চুল ও ভ্রু কেটে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার সাভার ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- ভুক্তভোগীর স্বামী মেহেদী হাসান সুজন, মো. সুমন ও মোছা. ময়না।
দুপুরে র্যাব-১২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মুশফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে গত ১৫ ডিসেম্বর গৃহবধূ গুলনাহার পারভিন মিনুকে নির্যাতন করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা মিনুর চুল ও ভ্রু কেটে দেয় এবং মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে (মিনু) সিরাজগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেছা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়। এই ঘটনায় গতকাল ভূক্তভোগীর পরিবার শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন।
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মিনু গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ঘটনার দিন পশুর মতো হাত-পা বেঁধে রাতভর সারা শরীরে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে আটকে রেখে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। স্ত্রী সুন্দরী হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহ করতো সুজন। এছাড়া দরিদ্র পরিবারের পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তবুও থামেনি নির্যাতন। পরে নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে বাবার বাড়ি ফিরে যান মিনু।
নির্যাতিত গৃহবধূর মা আনোয়ারা খাতুন জানান, বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, খাট, আলমিরাসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বিবেচনা আবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
র্যাব জানায়, ১৫ বছর আগে শাহজাদপুরের মেহেদী হাসান সুজনের সঙ্গে মিনুর বিয়ে হয়। তাদের দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেহেদী একজন গামেন্টর্স কর্মী। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি শাহজাদপুরে এলে স্বামী সুজন নির্যাতিত করে। এসময় তার মাথার চুল ও চোখের ভ্রু কেটে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে মিনুর পরিবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এই ঘটনায় মামলা হলে র্যাব অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালায়। অবশেষে আজ ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।