প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
(ভিজিট : ১৫)
রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে। এবার প্রথমবারের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রচলিত পথ এড়িয়ে বিকল্প রুটে চালানটি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী তিনটি লরি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
এবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া এবং পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে লরিগুলো রূপপুরে পৌঁছায়। ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রে এর আগে এ বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়নি।
ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত পুরো সড়কপথে বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এ দায়িত্ব পালন করেন।
এ নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাল। এর আগে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া এবং পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় যেত।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস মুঠোফোনে জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্পে আনা হয়েছে।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।