বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটিতে এসেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কানাডা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও তিনবারের সাবেক সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিশ্বস্ত সহচর ফয়সাল আহমেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আজ বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
গত ৩ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সততা, ত্যাগ এবং বিচক্ষণতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদায়ন তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কৃতি সন্তান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী কেবল একজন সফল সমবায় সংগঠকই নন, বরং জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে নিরলস ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু ও কঠিন দিনগুলোতে যখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, তখনও বিদেশে ও দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তার নেতৃত্বে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠেছিলো ফ্যাসিবাদ সরকারবিরোধী আন্দোলন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি দেশে-বিদেশে নেতা-কর্মীদের সাহস জুগিয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর অমানবিক হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
১/১১-এর সেই কঠিন ও অন্ধকারময় সময়ে, যখন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে একের পর এক গ্রেফতার ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বপ্রথম সোচ্চার হন ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। কানাডা পার্লামেন্ট ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রাক-প্রেক্ষাপটে দলের অভিভাবক তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বহির্বিশ্বে বিএনপির দুর্দিনের এই কাণ্ডারী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সফল ভূমিকা পালন করেছিলেন। কেবল প্রবাসেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টের একাধিক এমপিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে এসে বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেন এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে হয়রানি ও গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
গত দেড় দশকের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে দেশে এবং কানাডায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। শত নির্যাতন, মামলা-হামলা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে একচুলও সরে যাননি। দলের নীতি, আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং ত্যাগের কারণে ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী লাভ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অগাধ স্নেহ ও আশিস। রাজপথের একজন পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে জিয়া পরিবারের সঙ্গে তাঁর গড়ে উঠেছে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক।
সম্প্রতি দলে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সঠিক মূল্যায়নের যে ধারা তৈরি হয়েছে, ফয়সাল আহমেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ দায়িত্ব প্রদান তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা "হাইব্রিড চক্র" ও সুবিধাবাদীদের ভিড় ঠেলে সত্যিকারের সংগ্রামী নেতাদের এভাবে মূল্যায়ন করা সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডে সফল নেতৃত্বের পর এবার জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড পরিচালনা করবেন ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সমবায়ীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সাধারণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের কল্যাণে ব্যাংকটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তাঁর এই নিয়োগ বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণ সমবায়ী ও দলীয় কর্মীদের বিশ্বাস, ফয়সাল আহমেদ চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়ে নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।