বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬ ● ২০ কার্তিক ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


মিল্ক ভিটা: দেশের দুগ্ধশিল্পের বিকাশে আস্থা, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার এক অনন্য নাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম  (ভিজিট : ১৫)
দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং দুগ্ধ খামারিদের স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড—মিল্ক ভিটা।

বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম সম্ভাবনাময় উপখাত হলো দুগ্ধশিল্প। মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আর বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্পের বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম মিল্ক ভিটা।

সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারিদের উৎপাদিত দুধ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর ফলে একদিকে যেমন খামারিরা তাঁদের উৎপাদিত দুধের বাজার পাচ্ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও পাচ্ছেন প্রক্রিয়াজাত দুগ্ধজাত পণ্য।

সমবায়ের শক্তিতে কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তি
মিল্ক ভিটার প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের কার্যক্রম নতুনভাবে সংগঠিত হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), UNDP এবং ডেনমার্কের DANIDA-এর সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং শহরাঞ্চলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত দুধ সরবরাহ করা। 

প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সমবায়ভিত্তিক কাঠামো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা সমবায়ের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি খামারিদের নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হয়। 

পুষ্টি নিরাপত্তায় দুগ্ধজাত পণ্যের ভূমিকা
দুধ মানুষের পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের শারীরিক বৃদ্ধি, হাড় ও দাঁতের গঠন এবং দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে দুধের ভূমিকা রয়েছে। দেশের মানুষের কাছে মানসম্মত দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে মিল্ক ভিটা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটি তরল দুধের পাশাপাশি দই, ঘি, মাখন, গুঁড়া দুধসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে। এসব পণ্যের মাধ্যমে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্পেও অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। 

বর্তমান সময়ে দেশের দুগ্ধশিল্পে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মিল্ক ভিটাকে উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য, মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বিপণন কৌশল এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

পাশাপাশি দুধ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। অতীতে প্রতিষ্ঠানটির কিছু উৎপাদন ইউনিট ও ব্যবসা সম্প্রসারণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। 
এ জন্য প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও সমবায় দর্শনকে অক্ষুণ্ন রেখে সময়োপযোগী সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মিল্ক ভিটা কেবল একটি দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি দেশের হাজারো দুগ্ধ খামারির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনা এবং সমবায়ভিত্তিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কৃষকের ন্যায্য অধিকার ও ভোক্তার পুষ্টি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যেতে পারলে মিল্ক ভিটা হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের স্বনির্ভর দুগ্ধশিল্প গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: মাহফুজুর রহমান রিমন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]