প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
(ভিজিট : ৩৫)
একসময়ের আলোচিত ‘রোকযানা’ গানের শিল্পী শেখ সাহেদ আলী রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
সম্প্রতি স্ট্রোকের পর ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। শিল্পীর বন্ধু ও কুল এক্সপোজারের প্রধান এরশাদুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এরশাদুল হক জানান, গত চার বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে সাহেদকে। গত ২৪ অক্টোবর শরীরে সোডিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোক করেন তিনি। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না এই শিল্পী। ফিসফিস করে কথা বলা ও ইশারার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গুও ধরা পড়ে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ অক্টোবর তাকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে (এইচডিইউ) নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে রাজধানীর আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
এরশাদুল হক আরো জানান, সর্বশেষ ডায়ালাইসিসের পরও সাহেদের বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তার ডান হাত ও পা ফুলে গেছে। ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহৃত ফিস্টুলায় রক্ত জমাট বাঁধায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
অসুস্থতার কারণে থমকে গেছে সাহেদের দীর্ঘদিনের একটি সংগীত আয়োজনও। এরশাদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে তৈরি করা ২৪টি নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন শিল্পী। জি-সিরিজের ব্যানারে গানগুলো প্রকাশের পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য চারটি করে সিডি, ক্যাসেট ও ভিনাইল রেকর্ড প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল। আগামী ৬ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা ছিল। তবে শিল্পীর অসুস্থতার কারণে তা বাতিল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে ১৫ নভেম্বরের পর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সাহেদের দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল। এরশাদুল হক জানান, কিডনি দাতাও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির কারণে সেই যাত্রা আপাতত স্থগিত রয়েছে।
শেখ সাহেদ ‘গাছ’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা। নব্বইয়ের দশক থেকে সংগীতচর্চা করছেন তিনি। সংগীতাঙ্গনে ‘রোকযানা’ সাহেদ নামেও পরিচিত এই শিল্পী। তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘রোকযানা’, ‘উপলব্ধি’, ‘ক্লাসরুমে বসে শেখা’, ‘উটপাখির ডিম’, ‘খোলা চুল’ ও ‘প্রেম আসবেই’। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘প্রভু’। এরপর আরও পাঁচটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি।