সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬ ● ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


বগুড়ায় অটোরিকশা চালক হত্যায় নাতি ও নানী আটক
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম  (ভিজিট : ১৯)
জেলার শেরপুরে অটো রিকশা চালক আসাদুল ইসলামকে (২৬) হত্যার জট খুলেছে। হত্যা মামলা দায়েরের পাঁচ দিন পর পুলিশ জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকমুড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে শেরপুর থানা- পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেখানো মতে রোববার সকালে বগুড়া শহর থেকে অটোরিকশা গাড়ি ও দুপুরে শেরপুরের রণবীরবালা এলাকায় করতোয়া নদী থেকে এই হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছোড়া উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকমুড়িয়া গ্রামে রিয়াদ হোসেন (২১) ও তার নানী রেহানা বেগম (৬০)। আজ রোববার ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। রিয়াদ পেশায় একজন পরিবহন শ্রমিক। তাদের দুজনকে গ্রেপ্তারের পর শেরপুর থানার পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

থানা পুলিশ সূত্র জানায়, আসাদুল ইসলামকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছিল। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁর লাশ উপজেলার শাহবন্দেগি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামের করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামের অটোরিকশা চালক আসাদুল ইসলাম। এরপর সে বাড়ি ফিরে না যাওয়ায় পরদিন ২৫  অক্টোবর থানায় ডায়রি করেন তার মা মোছাঃ আঞ্জুয়ারা বেগম। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় করতোয়া নদী থেকে আসাদুলের লাশ উদ্ধারের পর তাঁর মা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দিতে তার নানী রেহেনা বেগম সহায়তা করেছে বলে স্বীকার করে। তাদেরকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রোববার বিকালে বগুড়ার আদালতে নেওয়া হবে। 

থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অটোরিকশা চালক আসাদুল ইসলাম ও সে (রিয়াদ হোসেন) মাদকসেবী ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় তারা একসাথে রিয়াদ উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রণবীরবালা গ্রামের নানির বাড়ি রেহানা বেগমের বাড়িতে ইয়াবা বড়ি সেবন করে। এ সময় আসাদুল রিয়াদের কাছে থাকা ৫০ টাকার একটি চকচকে নোট দেখে নিতে চায়। এই নোট দিতে রিয়াদ অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে আসাদুল কাছে থাকা একটি কলম দিয়ে রিয়াদকে আঘাত করার চেষ্টা করে। এসময় রিয়াদ ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাকু দিয়ে আসাদুলের গলায় আঘাত করে। এসময় আসাদুল রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে আসাদুলের মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেয় ও বুক চেপে ধরে। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা বিছানার চাদর দিয়ে আসাদুলের শরীর পেঁচিয়ে বাড়ির পাশে করতোয়া নদীতে লাশ ফেলে দেয়। এসময় রিয়াদের নানী রেহানা বেগম লাশটি নদীতে ফেলে গোপন করতে রিয়াদকে সহযোগিতা করেছে।

এনিয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, রিয়াদের উদ্দেশ্য ছিল আসাদুলের অটোরিকশা কৌশলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিক্রি করা। এ কারণেই গত ২৪ অক্টোবর দুপুরের পর রিয়াদ আসাদুলের রিকশায় ভাড়ায় উঠেছিল। এরপর রিয়াদ এই গাড়ি চালক আসাদুলকে নিয়ে তার নানির বাড়িতে সন্ধ্যায় ইয়াবার সেবন করেছিল।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: মাহফুজুর রহমান রিমন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]