প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ এএম
(ভিজিট : ১৪)
চরাঞ্চল, ফসলি জমি ও পদ্মার ভাঙ্গনরোধে কোটি টাকার তৈরি বাঁধ রক্ষার দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। বুধবার(২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকার ফটু মার্কেটে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এসময় তারা প্রকাশ্যে পদ্মার বুঁকচিরে বালি উত্তোলন ও ফসলি জমি নষ্টের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি রাতের আঁধারে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রভাবশালী চক্র এসব অবৈধ বালি উত্তোলন করছে। কিন্তু প্রশাসনের নামমাত্র অভিযান আর ফটোসেশানে কোনই প্রতিকার মিলছেনা বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা।
জানা গেছে, নদীপথের রাজা নামখ্যাত কাকন বাহিনীর লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট এরিয়ার বাহিরে কয়েকটি পয়েন্ট থেকে জোরপূর্বক অবৈধ বালি উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি সাড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন, রুপপুর ফটু মার্কেট ও লক্ষীকুন্ডা এলাকায় প্রকাশ্যে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে প্রভাবশালী চক্র দেদারসে এসব বালি উত্তোলন করে আসছে।
সরেজমিনে রুপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় এসব অবৈধ বালি উত্তোলন কার্যক্রমের দৃশ্যের দেখা মিলেছে। সেখানে নদীর মধ্যখানে কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে ১২ ইঞ্চি পাইপের মাধ্যমে এসব অবৈধ বালি উত্তোলন বানিজ্য পরিচালনা করতে দেখা গেছে প্রভাবশালীদের। এসময় পরিচয় গোপন রেখে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের কাছে বালি উত্তোলন বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এসব ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে সটকে পড়েন।
এদিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফসলি জমি ও কৃষকদের আবাদকৃত চরাঞ্চল নষ্ট করে প্রভাবশালীরা প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব বালিবহনকারী অবৈধ যানবাহন চলাচলে সড়ক ভেঙ্গে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের। গত দুদিন আগেও ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনই পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়না, শুধু মাঝেমধ্যে রাতে এসে নামমাত্র অভিযান দিয়ে চলে যায় কিন্তু এদের বালি উত্তোলন কার্যক্রম আগের মতই চলতে থাকে। একদিকে আমাদের ফসলি জমি নষ্ট অন্যদিকে সড়ক নষ্ট সব মিলিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছি।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গতকাল রাতেও অভিযান দিয়ে কয়েকটি পয়েন্ট বালি উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। আমরা চলে আসার পর তারা আবার শুরু করে। আমাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে, শুধু আমরা নয় এসব বালিখেকোদের দৌরাত্ম বন্ধে সকলের সহযোগীতা দরকার।