
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বহু সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ইস্পাতকঠিন বিএনপির অগ্রবাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।’
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘আজ থেকে ৪৮ বছর আগে এ দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী মহান রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা হয়। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এই সংগঠনটি দেশের তরুণদের এক বৃহত্তম যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।’
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য ও বীরত্বের প্রতীক এই যুবদলকে রাজপথে বহুবার দমনপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন জেলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে শুধু রাজনৈতিক কারণে। তবু তারা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও তাদের কর্তব্য থেকে একচুলও পিছপা হননি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষার যে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী যুবদল অনবদ্য অবদান রাখবে। দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কাজ এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে যুবদল কাজ করে যাবে।
যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আরো বলেন, আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও নুরুল ইসলাম নয়ন ছাত্রজীবন থেকেই অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে আজকের যুবদলের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাদের এই অসম সাহসী নেতৃত্ব ফ্যাসিস্ট ও একনায়কতন্ত্রের পতনে এক প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিসহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।