কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সমূলে উৎখাত করা হবে। কিশোররা অস্ত্র নিয়ে, চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তারা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া করবে, দক্ষ হবে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে। তারা রোবটিক যুগে প্রবেশ করবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, এখন যারা সমাজে সন্ত্রাস ও মব করছে বিগত শাসনামলেও তারাই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলো। তাদেরকে আমরা ছেঁকে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা কোনো হেলমেট বাহিনী দেখতে চাইনা, হাতুড়ি বাহিনী তৈরির কোনো ইচ্ছে বর্তমান সরকারের নেই। আমাদের দায় চাপানোর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অশ্লীল ভাষা আর বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমে যারা অপপ্রচার করছে তাদের লাগাম টেনে ধরা হবে। আমরা মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছি। সংসদ সদস্য মিষ্টির পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠিন ও কঠোর বার্তা দিয়েছে। অপরাধ করে কেউই পার পাবে না। আমরা নিজের ঘর থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি, জুয়ারিরা সব সময় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক খোলস পাল্টায়। এদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বিগত শাসন আমলে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করতো তারাই আবার বর্তমান ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙ্গিয়ে কিশোর অপরাধ সংগঠিত করছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখার সুযোগ নেই, সন্ত্রাসীরা কেবলই সন্ত্রাসী। কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধ করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি দল বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেই ঢালাওভাবে সরকারের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ। ব্লেইম গেইমের রাজনীতি পরিহার না করলে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকের ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক দায় আলোচনায় আসার পর তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মাধ্যমে এটিই প্রতীয়মান হচ্ছে সরকার কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। মিষ্টির সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা।
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক এম এম বাদশাহ্, সাংবাদিক মনির মিল্লাত ও সাংবাদিক জাফর ইকবাল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।