রাজধানীর মহাখালীতে ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ভাড়া পরিশোধ না করা, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরির অভিযোগ তুলেছেন রোজি খন্দকার নামে এক নারী। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রোজি খন্দকার। তিনি মৃত মনজুরুল আলমের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রোজি খন্দকার অভিযোগ করেন, তাঁর ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবীর ও তাঁর স্ত্রী নুরুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ওই দম্পতি নানা ধরনের প্ররোচনা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রোজি খন্দকারের দাবি, প্রায় আড়াই বছর ধরে তাঁর ফ্ল্যাটের ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। এতে বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ভাড়াটিয়া দম্পতি বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন রোজি। তাঁর অভিযোগ, ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলে পরে পাশের একটি ভবনে একটি ফ্ল্যাট কিনে ফেলেন তারা। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বাসায় তালা ঝুলিয়ে তারা চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
রোজি খন্দকার আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাঁর বাড়ির দলিলপত্র, ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একটি ফাইল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুঠোফোনে তাঁদের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের কিছু অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে, যা অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে একজন তাঁর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন এবং অপর দুজন ঢাকার বাইরে বসবাস করেন। বিষয়টি জানার পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন এবং সন্তানদেরও বিষয়টি অবহিত করেন।
রোজি খন্দকারের ভাষ্য, পরে তিনি বুঝতে পারেন, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি বাড়িতে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনারও প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রোজি খন্দকার প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।