রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য খাতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত তহবিলটির মেয়াদ তিন বছর। এ সময়ে তহবিলটি রিভলভিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তহবিলের আওতায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য এবং অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কাজে ঋণ দেওয়া যাবে। কাঁচামাল ক্রয়, কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি কেনা, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং বন্ধ বা আংশিক সচল কারখানা পুনরায় চালুর মতো কার্যক্রমে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং পরিবেশগত ক্ষতি প্রশমনেও অর্থায়ন করা যাবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৭ শতাংশ।
বিপরীতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ৪ শতাংশ সুদ দেবে। অর্থাৎ এ ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ৭ শতাংশে বিতরণ করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদে, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ দেওয়া যাবে। বিদ্যমান কারখানার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে ঋণ মিলবে। চলতি মূলধন ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর এবং সন্তোষজনক ব্যবসায়িক লেনদেনের ভিত্তিতে একবার নবায়ন করা যাবে।
ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের অর্থায়নের অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ৭০ : ৩০। বিদ্যমান কারখানার সংস্কার ও আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ ২০ কোটি এবং নতুন কারখানা নির্মাণে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা বা মূল প্রকল্প ঋণের ৩০ শতাংশ—যেটি কম-পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে।
চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ বা আংশিক বন্ধ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং একই খাতে অন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারি তহবিলের ঋণ সুবিধা চলমান থাকা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।