সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইমেরিটাস সভাপতি ড.কামাল হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
গণতন্ত্র ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক-সামাজিক ঐক্য জরুরি: ড. কামাল
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম  (ভিজিট : ৬৭)
গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা, ইমেরিটাস সভাপতি ড.কামাল হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঢাকাস্থ ইন্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণফোরাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ মিজানুর রহমান। সভার প্রারম্ভে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা জাতীয় বিবেক গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ডঃ কামাল হোসেন কে দলীয় নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা প্রদান করেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গণফোরাম প্রতিষ্ঠাতা, সংবিধান প্রণেতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ডঃ কামাল হোসেন, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রেহমান সোবহান, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন মন্ত্রী জনাব আব্দুল মঈন খান, বাসদ প্রতিষ্ঠাতা কমরেড খালেকুজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবদুল্লাহ আল কাদরী রতন, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আবু সাঈদ, সিপিবির সভাপতি ডঃ দেবব্রত ভট্টাচার্য, গণফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফিক আহসান, আ স ম আবদুর রব-এর মেয়ে জাসদ নেত্রী তানিয়া রবসহ জাতীয় ও গণফোরাম নেতৃবৃন্দ।

গণফোরামের সভাপতি পরিষদ সদস্য ও উদযাপন কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তৌফিক এহসান সুচনা বক্তব্য রাখেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের প্রচলিত কদর্য রাজনীতির বিপরীতে সুস্থধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই গণফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় দলটির নেতা-কর্মীরা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংকট, ভোটাধিকার হরণ, মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

ড. কামাল বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গণফোরাম কোনো ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তনের জন্য নয়, জনগণের জন্য পরিবর্তন চায়। জনগণের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে।

গণফোরামের লক্ষ্য হিসেবে তিনি বৈষম্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন। দেশের সব নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, গণফোরামের নেতা-কর্মীদের জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সংবর্ধনা ও দলের ৩৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন- বাংলাদেশ ছোট একটি ভূখণ্ড হলেও এর জনসংখ্যা বিপুল। সীমিত সম্পদের মধ্যেই দেশের মানুষকে জীবনযাপন ও অগ্রগতির সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় কর্মসংস্থানের অভাব আজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগই নয়; এটি মানুষের কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক সমতা, উন্নত জীবনযাপন এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার পথ। একই সঙ্গে গণতন্ত্র মানুষের মনের বিকাশ, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ও চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। গণতন্ত্র না থাকলে একটি দেশ সবদিক থেকেই পিছিয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তবে আমি হোঁচট খাওয়াটাকে বড় করে দেখি না। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবারই সেই হোঁচট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সামনে এগিয়ে গেছে। তারা সত্য, ন্যায়, জনগণের অধিকার ও নারীর অধিকারের কথা বলেছে। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণআন্দোলন-প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এই চ্যালেঞ্জ আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে মোকাবিলা করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু সেই বৈচিত্র্য নিয়েই আমাদের একটি ঐক্যবদ্ধ ও সুষম সমাজ গড়ে তুলতে হবে। পৃথিবীর সব মানুষের মত এক হবে-এটি প্রকৃতির নিয়মেরও পরিপন্থী। ভিন্নমত থাকবে, তবে যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে যেটি সঠিক, আমাদের সেই পথে এগিয়ে যেতে হবে।

ড. মঈন খান বলেন, ড. কামাল হোসেনের জীবন থেকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছেন-কাজের ক্ষেত্রে গভীর মনোযোগ ও পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ড. কামাল হোসেন কীভাবে অফিস পরিচালনা করতেন, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তার।

অনুষ্ঠানে গণফোরামের নেতা-কর্মী, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ড. কামাল হোসেন।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]