সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


বারিধারা ডিওএইচএসে বিড়ালকে খাবার দেওয়া নিয়ে হামলার অভিযোগ
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ পিএম  (ভিজিট : ১৩)
পথবিড়ালদের রক্ষা ও খাবার দেওয়ার চেষ্টা করায় রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক নারীসহ তিন পুরুষকে মারধর এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

গতকাল শুক্রবার গঠিত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও বাসিন্দারা আনুষ্ঠানিক তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার দিকে বারিধারা ডিওএইচএসের ৫ নম্বর রোডে, মসজিদের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দা আকিবুর রহমান খান।

আকিবুর রহমান খান জানান, ডিওএইচএসের পার্কের কাছে প্রায় ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী ওই দলটির ওপর হামলা চালান। এ সময় তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া, লাথি মারা এবং চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়।

একই ঘটনায় বাসিন্দা রাফিদকে গুরুতর মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আকিবুর রহমান খান বলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা তার পায়ে পা দিয়ে চাপ দেন এবং মুখ ও পিঠে লাথি মারেন। এতে তার পায়ে হাড়ে চিড় ধরেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ ঠেকাতে নিরাপত্তাকর্মীরা বাসিন্দাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।

পরে আরও কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কিছু নিরাপত্তাকর্মী চাপাতি হাতে নেন এবং নিজেদের ব্যারাকের জানালা ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও মিলিটারি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আকিবুর রহমান খানের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকার কথা জানিয়ে তারা বাসিন্দাদের কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করেনি এবং তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থাও নেয়নি।

ভিডিওতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ঢাকা ক্রনিকাল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় বিড়ালকে খাবার দেওয়ার সময় কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী তাদের বাধা দেন। এ সময় তারা ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করতে গেলে এক নিরাপত্তাকর্মী একজনের ফোন কেড়ে নিয়ে চলে যান।

ফোন ফেরত চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, কয়েকজন গার্ড মিলে এক নারীকে মাটিতে ফেলে মারধর, লাথি ও চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এ সময় একজনের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে এবং আরেকজনকে পেছন থেকে লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অনেক নিরাপত্তাকর্মীর ইউনিফর্ম বা নামের ব্যাজ ছিল না। কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী নিজেদের ব্যারাকে ঢুকে ভাঙচুর করে সেই দায় তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তদন্ত কমিটি গঠন

এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাস্থলে ডিএইচএস বারিধারা এলাকার সিকিউরিটি কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ডিএইচএস বারিধারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সিকিউরিটি কর্মী ও আবাসিক বাসিন্দাদের নিয়ে একটি সভা হয়।

সভায় উভয় পক্ষের তিনজন করে মোট ছয়জন এবং একজন নিরপেক্ষ সদস্যসহ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে কোনো পক্ষের দায় বা ভুল পাওয়া গেলে কমিটি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ডিএইচএস বারিধারার নিজস্ব রেজুলেশন অনুযায়ী এ ধরনের বিষয় তারা প্রথমে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সমাধান করে থাকে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ বা তথ্য পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

ওসি জানান, ঘটনার রাতে পুলিশ ও মিলিটারি পুলিশ উভয় পক্ষই ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় উভয় পক্ষই ভিডিও ধারণ করছিল। পরে সভায় মোবাইল ফোনগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলটি ডিএইচএস বারিধারার ৫ নম্বর রোডে, মসজিদের বিপরীতে। ঘটনাটি দিবাগত রাত ১টা থেকে ২টার দিকে ঘটে।

পথপ্রাণী নিয়ে উত্তেজনা

পথপ্রাণী নিয়ে বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদ এবং প্রাণীকল্যাণকর্মীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বারিধারা ডিওএইচএসের ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অব বারিধারা ডিওএইচএস’-এর সদস্যরা কমিউনিটি প্রাণীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর কথা উল্লেখ করে আসছেন।

মানবিকভাবে পথপ্রাণীদের প্রতি সহনশীল আচরণ এবং একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে এনে কোনো পক্ষের প্রতি অন্যায় না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]