দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ব্যবহার বেড়েছে। এতে রাজধানীসহ শিল্পাঞ্চলগুলোতে ডিজেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে শিল্পকারখানাগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে ডিজেলের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানো হয়নি।
সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসি রুমে বসে সিদ্ধান্ত নেন, মাঠের অবস্থা জানেন না। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। জেনারেটর চালাতে প্রচুর ডিজেল দরকার হয়। এখন চাহিদা বাড়লে তো সরবরাহও বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটি করা হচ্ছে না। সরবরাহ আগের মতোই আছে।’
তিনি জানান, বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে ডিজেলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। আগে যেসব পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা ছিল, বর্তমানে সেখানে চাহিদা বেড়ে প্রায় ২০ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে।
পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
কাবুল বলেন, ‘পাম্প থেকে গাড়ি গেলে সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আগামীকাল আবার আসেন। কিন্তু এভাবে তো শিল্পকারখানার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ডিজেলের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ শুক্রবার বিধায় হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি পাঠিয়েছি। অফিস খুললে সরাসরি চিঠি দেব।’
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চলমান থাকায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটরের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে ডিজেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ অবস্থায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।