মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


ঢাকায় মিডিয়া: ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকার অক্ষুন্ন রাখতে হবে
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম  (ভিজিট : ২০)
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকায় একটি মিডিয়া ফোরাম গঠিত হয়েছে। এ ফোরাম  একটি আলোচনা সভাও আয়োজন করে । বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ যুব-এর উদ্যোগে গত ৮ ই আগস্ট  এ ফোরাম এর আলোচনা  অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ফোরামের আইনজীবী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যুব নেতা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। 

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার শিনচিওনজি চার্চ অব জিজাসের চেয়ারম্যান এবং আন্তর্জাতিক শান্তি সংগঠন HWPL-এর চেয়ারম্যান লি মান-হির প্রাক-বিচারকালীন আটক নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়। এগুলো হলো, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া, নির্দোষ হিসেবে বিবেচনার অধিকার এবং আটকাদেশের যৌক্তিকতা। বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী হিসেবে দেখা উচিত নয়। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনের মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি লি মান-হির শান্তি কার্যক্রমের প্রসঙ্গে ফিলিপাইনের মিন্দানাও শান্তি চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে শান্তি ও সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হয়েছিল।

সাংবাদিকতার দায়িত্ব নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার মতে, কোনো ঘটনা যত বেশি বিতর্কিত হবে, সাংবাদিকদের তত বেশি সতর্ক হতে হবে। যাচাই করা তথ্য ও অভিযোগকে আলাদা করে তুলে ধরতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও গুরুত্ব দিতে হবে। আদালতের রায় হওয়ার আগে কাউকে সামাজিকভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (IUB) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল আওয়াল খান বিচারিক ন্যায়বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি অনুযায়ী প্রাক-বিচার আটক একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। এটি যেন নিয়মে পরিণত না হয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—সবার ক্ষেত্রে একই আইনি মানদণ্ড প্রয়োগ করা জরুরি।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ব্রহ্মাণ্ড প্রতাপ বড়ুয়া নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি লি মান-হির সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা আদালত প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশ ইয়ুথ এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনের (BYEF) সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসাইনও বক্তব্য দেন। তিনি ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সমতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কারও ধর্ম বা মতামতের কারণে ন্যায়ের মানদণ্ড পরিবর্তন করা উচিত নয়।

ফোরামে গণমাধ্যমের প্রতি তিনটি প্রশ্ন রাখা হয়—তথ্য কতটা যাচাই করা হয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে কি না এবং নেওয়া ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কি না।

আলোচনা শেষে একটি যৌথ বিবৃতি পাঠ করা হয়। এতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনার অধিকার, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া, আটকাদেশের যৌক্তিকতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যৌথ বিবৃতিটি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে পাঠানো হবে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের নীতিগুলো সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]