সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


মোরেলগঞ্জে ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবার সহ গ্রেপ্তার ৪
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৪ পিএম  (ভিজিট : ৩৪)
খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় র‌্যাব-৬-এর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার এক দম্পতি। বিপুল পরিমাণ এই মাদকের চালান কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে খুলনায় পৌঁছেছে এবং এর পেছনে আরও কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

র‌্যাবের দাবি, মাদকবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে তথ্য পাওয়ার পর মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চারজনকে আটক করার পর তাদের হেফাজতে থাকা মাদকদ্রব্য তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা।

গ্রেপ্তার দম্পতিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পুঁটিখালী গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দীন সেন্টু (৩৭) এবং তার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৩২)।

এ ছাড়া কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকার মো. শফিকের মেয়ে মারিয়াম (২০) এবং আয়শা, যিনি আব্দুল্লার স্ত্রী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই অভিযানে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের একটি দম্পতিসহ কক্সবাজার-উখিয়া এলাকার ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাদক সরবরাহের সম্ভাব্য রুট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তারা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং মাদকের চালান পরিবহনে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

গোপন তথ্যেই বেরিয়ে এলো বড় চালান
র‌্যাব-৬ সূত্রে জানা যায়, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল মিয়াপাড়া এলাকায় মাদকদ্রব্যের একটি চালান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য পায়। তথ্য যাচাই-বাছাই করে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে চারজনকে আটক করার পর তাদের হেফাজতে থাকা সামগ্রী তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে উদ্ধার করা হয় ৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে।

কোথা থেকে এলো ইয়াবা?
বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই মাদকের উৎস কোথায়?
কক্সবাজারের উখিয়া ও বালুখালী এলাকার একজনকে গ্রেপ্তার এবং বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দম্পতির একই ঘটনায় আটকের বিষয়টি মাদক সরবরাহের সম্ভাব্য আন্তঃজেলা যোগাযোগের দিকটি সামনে আনছে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট মাদক রুট বা চক্রের প্রমাণ নয়; তদন্তেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন খতিয়ে দেখতে পারে—উদ্ধার করা ইয়াবা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছিল, চালানটি কোথায় যাওয়ার কথা ছিল এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না।

শুধু বাহক, নাকি নেপথ্যে আরও কেউ?
মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনই মূল কারবারের সঙ্গে জড়িত কি না, নাকি তারা কোনো বড় চক্রের বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন—তাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই দেখা যায়, একটি চালান আটক হলেও এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী, অর্থদাতা, পরিবহনকারী ও মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুধু চালান উদ্ধার ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত শেষ না করে মাদকের অর্থনৈতিক লেনদেন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনাকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি?
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে খুলনা অঞ্চল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। ফলে মাদকদ্রব্য পরিবহনে এই অঞ্চলকে কোনো চক্র ব্যবহার করছে কি না, সেটিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসতে পারে।
মিয়াপাড়ার মতো নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় মাদক পরিবহনের কৌশল ও নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে খুলনাকে কোনো নির্দিষ্ট মাদক রুট হিসেবে চিহ্নিত করার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

তদন্তেই মিলবে আসল রহস্য
র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

তদন্তে যদি মাদকের উৎস, সরবরাহকারী কিংবা নেপথ্যের কারবারিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে এই অভিযান আরও বড় একটি মাদকচক্রের সন্ধান দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়—৩ হাজার ৯৫৮ পিস ইয়াবার এই চালানের নেপথ্যে আসলে কারা, আর এর গন্তব্যই বা কোথায় ছিল।

মাদকবিরোধী অভিযানে এই চালান উদ্ধার নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে উদ্ধার করা ইয়াবার সঙ্গে জড়িত পুরো সরবরাহ চক্রের শিকড় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছাতে পারে কি না, তার ওপর।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]