বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারে জুড়ে দেওয়া হয় বিশেষ শর্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ পিএম  (ভিজিট : ২১)
সরকারি কেনাকাটায় অনেক সময় পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রে (টেন্ডার) এমন বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য–ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণাটি বাস্তবায়ন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয়ে এ ধরনের অনিয়ম বাস্তব ঘটনা এবং অডিটের সময় অনেক ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে। তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে তার মন্ত্রণালয়ের একটি ফাইল দেখে সন্দেহ হওয়ায় তিনি সাত দিন সেটিতে সই করেননি। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সই করতে বাধ্য হন। পরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ না পাওয়ায় রিভিউ বোর্ডে আপিল করলে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় এবং ওই প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দেওয়া হয়। এতে তার প্রাথমিক সন্দেহের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসরণ করেও অডিট আপত্তি এড়াতে অডিটরকে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে এবং সততার সঙ্গে কাজ করলে কাউকে ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো অডিটর অর্থ দাবি করলে তা সরাসরি তাকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১১ কোটি টাকা মূল্যের দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। কিন্তু মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাংকার নির্মাণ না করায় একটি ফরিদপুরে এবং অন্যটি খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিকল্পনাহীন কেনাকাটার কারণে এভাবে জনগণের অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে

কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। নয় মাসব্যাপী এ গবেষণা দেশের আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয়। এতে ৯৫টি গভীর সাক্ষাৎকার, একটি জ্ঞান-দৃষ্টিভঙ্গি-চর্চা (কেএপি) জরিপ এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট ব্যয়ের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। তবে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেই অর্থবছর শেষে কিছু অর্থ অব্যয়িত থেকে যায়। অডিট আপত্তির আশঙ্কা, বাজেট ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের অভাব এবং বরাদ্দ পুনর্বণ্টনে দীর্ঘসূত্রতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতিরও চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ২২ দশমিক ৭ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বর্তমানে সরকারি হাসপাতালের প্রায় ৬২ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ করে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করতে পারলে এ হার প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

যন্ত্রপাতি থাকলেও সেবা ব্যাহত

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অভাব, যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে থাকা এবং প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সংকটের কারণে অনেক হাসপাতালে পরীক্ষাগারসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সেবা ব্যাহত হওয়ার ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী রিএজেন্টের ঘাটতি, ৩৪ শতাংশের জন্য অকেজো যন্ত্রপাতি এবং ১৯ শতাংশের জন্য দক্ষ জনবলের অভাব।

জনবল সংকটও প্রকট

গবেষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অনুমোদিত ৬ হাজার ৪০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৩ হাজার ৮৯২ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের হার ২৭ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ১২ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ৩৬ শতাংশ। ফলে অনেক হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য শুধু বরাদ্দ বা ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং সময়মতো অর্থ ছাড়, কার্যকর ব্যবহার এবং রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সচল যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন কি না—সেই মানদণ্ডেই মূল্যায়ন করা উচিত। 








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]