বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


কূটনৈতিক সাফল্যের নতুন দিগন্ত: মালয়েশিয়া সফরে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক অর্জন
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৭ পিএম  (ভিজিট : ২৫)
সাধারণত যেকোনো দেশের সরকারপ্রধান যখন দ্বিপাক্ষিক সফরে অন্য কোনো দেশে যান, তখন স্বভাবতই সফরকারী দেশের পক্ষ থেকেই এজেন্ডা বা চাওয়া-পাওয়ার তালিকা দীর্ঘ থাকে। স্বাগতিক দেশের প্রত্যাশা বা আগ্রহের জায়গাটি সেখানে তুলনামূলকভাবে কমই দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া সফর যেন এই প্রচলিত কূটনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। মাত্র ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টার এক সংক্ষিপ্ত সফরে কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে বরণ করে নেওয়া হলো, তা কেবল প্রত্যাশার চেয়ে বেশিই ছিল না, বরং তা ছিল নজিরবিহীন।

​১৬ ঘণ্টার ম্যাজিক: চুক্তি ও অর্জনের খতিয়ান
​সময়টা মাত্র এক দিনও ছিল না, অথচ এই সীমিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ওয়ান-টু-ওয়ান (একান্ত) বৈঠক, সীমিত প্রতিনিধি দল নিয়ে আলোচনা এবং সবশেষে দ্বিপাক্ষিক বৃহৎ পরিসরের বৈঠক। আর এই নিবিড় আলোচনা থেকেই উঠে এসেছে এক বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য। ১০-১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং একটি কার্যকর 'অ্যাকশন প্ল্যান' স্বাক্ষরিত হয়েছে। এত অল্প সময়ে এমন দৃশ্যমান অর্জন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল।

​বঙ্গোপসাগরের জ্বালানি ও মালয়েশীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা
​সফরের অন্যতম বড় চমক ছিল বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান। গতকালই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বঙ্গোপসাগরে নতুন তেলের খনি চিহ্নিত করা গেছে এবং দ্রুতই সেখানে উত্তোলন কাজ শুরু হবে। দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে একান্ত বৈঠকে এই জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ যখন সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে নামবে, মালয়েশিয়া যেন সেখানে অন্যতম বড় অংশীদার বা ইনভেস্টর হিসেবে যুক্ত হয়—এই ছিল মূল প্রস্তাব। আনোয়ার ইব্রাহিমও এতে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ফলে, কাজ শুরুর আগেই বিনিয়োগকারী নিশ্চিত করার এই অগ্রিম কৌশল দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনেকখানি নিরাপদ করল।
​আসিয়ান ও রোহিঙ্গা সংকট: পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার
​আঞ্চলিক কূটনীতিতেও এই সফর বাংলাদেশের জন্য বড় জয়ের বার্তা এনেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট 'আসিয়ান'-এর সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। এর পাশাপাশি, ‘হালাল অর্থনীতি’ বা হালাল সার্টিফিকেশন ও বাণিজ্যে দুই দেশ একে অপরের সহযোগী হিসেবে সমন্বয় করে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় ফুটে উঠেছে দুই দেশের যৌথ বিবৃতির ভাষায়। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক যেকোনো প্ল্যাটফর্মে কোনো রকমের ‘যদি-কিন্তু’ বা শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশকে সব ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেবে মালয়েশিয়া।

​বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন
​বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক গৌরব ও কূটনৈতিক উত্থানের আবহেই সামনে আসছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন (UNGA)। যেখানে সর্বোচ্চ চেয়ারে বসে, অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের আসনে থেকে মূল বিতর্ক ও অধিবেশন পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব প্রদান এবং মালয়েশিয়া সফরের সাফল্য—দুইয়ে মিলে দেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

​দুই নেতার চিন্তাদর্শন ও এশীয় রেনেসাঁ
​মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বিশ্ব রাজনীতিতে একজন চিন্তক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে সমাদৃত। তার দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম এবং লেখার মাধ্যমে তিনি বহু সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং পারস্পরিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি 'এশীয় রেনেসাঁ' বা এশিয়ার জাগরণের স্বপ্ন দেখিয়েছেন; যেখানে ব্যক্তির স্বাধীনতায় সমষ্টির কল্যাণ যেমন থাকবে, তেমনি সমষ্টির স্বার্থে ব্যক্তি হারিয়ে যাবে না।

​কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি যেভাবে উষ্ণ আতিথেয়তা ও প্রটোকল দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় এক উদীয়মান ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উত্থানকে অনুধাবন করতে পেরেছেন। দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে আনোয়ার ইব্রাহিমের যে চিন্তাদর্শন, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে এই দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।

​ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আলোড়ন: বিশ্বজুড়ে প্রশংসা
​এই ঐতিহাসিক সফরের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। মালয়েশিয়ার সরকারি ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে একের পর এক পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। পুরো সফরের প্রতিটি মুহূর্তকে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও সিনেমাটিক স্টাইলে, বাংলাদেশের আবহমান মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করে রিক্যাপ ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছে।

শেষ কথা
​এই সম্মান কিংবা এই বিপুল আতিথেয়তা কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বদরবারের এক অনন্য স্বীকৃতি ও সম্মান। এক দিনেরও কম সময়ের এই ঝটিকা সফর প্রমাণ করল—সঠিক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব থাকলে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়েও দেশের জন্য কত বড় ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য বয়ে আনা সম্ভব। জাতি হিসেবে এই অনন্য সম্মান ও বন্ধুত্বের জন্য মালয়েশিয়া ও তার নেতৃত্বের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।


লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, অভিনেতা ও উপস্থাপক








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]