বুধবার ২৪ জুন ২০২৬ ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


৫০-১৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম  (ভিজিট : ৪)
দেশের রপ্তানি আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার মতে, সম্ভাবনাময় মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলে বর্তমান ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় আগামী দিনে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কর্মশালায় গবেষণার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত একটি বৃহৎ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং রপ্তানি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা।

এ জন্য শিল্প খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত অভিযোজনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‌‘পাঁচ-সাতটি খাতকে কেন্দ্র করে যদি আমরা সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করতে পারি, তাহলে দেশের রপ্তানি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাটভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চামড়া ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ইতিমধ্যে গড়ে ওঠা অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব কেন্দ্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হলে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
পাট খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট ফ্যাব্রিক উৎপাদনে জোর দিলে আয় কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর অংশীদারি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শিল্পখাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রক্রিয়া সরলীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাণিজ্য সচিব জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-কে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং হোসনা ফেরদৌস সুমি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]