পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৫ দফা দাবিতে আরো বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন, ‘অপাহাড়ি’ প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, আদিবাসী অধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেমন রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সচল রাখতে বিচক্ষণ ভূমিকা রাখতে হবে।
আরো বলা হয়, বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা (রেইনবো নেশন) বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ একে স্বাগত জানিয়েছে। এ ছাড়া সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে নানাক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণাও দিয়েছে। এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশের এক দশমাংশ জায়গাজুড়ে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার তালিকার রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী ও সেটেলার বাঙালিদের মধ্যে একটি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিদ্যমান। সেই বিরোধকে টিকিয়ে রেখে পাহাড়কে অশান্ত করার কোনো চিন্তা আমরা করতে চাই না। কাজেই এই চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নই হবে এ এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার একমাত্র উদ্যোগ।
তারা আরো বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় পার্বত্য জেলা পরিষদে সর্বাধিক বিভাগ ও দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছিল। বিএনপি বর্তমান নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান পাহাড় ও সমতলের সব মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন।
সরকারঘোষিত অঙ্গীকার ও চুক্তির বিধানসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।