প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম
(ভিজিট : ১৮)

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, পবিত্র দুই মসজিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হলে বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তা দিতে প্রস্তুত।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অংশীদার। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এবং বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা সক্ষমতা মুসলিম দেশগুলোর সেবা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারলে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। শিগগিরই এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখন সেই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর সময় এসেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রমশক্তি রপ্তানি থেকে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং রেমিট্যান্সনির্ভরতা থেকে বিনিয়োগমুখী অংশীদারত্বের দিকে এগোতে চায়। ঐতিহ্যগত সহযোগিতার পাশাপাশি নতুন খাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না। একইভাবে সাহায্যনির্ভরতার পরিবর্তে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় দেশটি।
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে কাজ করবে।