২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা মূল্যায়ন পরীক্ষায় (পিআইএসএ) সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা দারুণ ফল করেছে। ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ার দক্ষতায় সিঙ্গাপুর বিশ্বে প্রথম হয়েছে।
গণিত ও বিজ্ঞানেও তারা দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে। এই পরীক্ষায় সিঙ্গাপুরের ১৫৭টি স্কুলের ৬ হাজার ৫৫১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
কম্পিউটারভিত্তিক সমস্যা সমাধানের পরীক্ষাতেও সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় হয়েছে। এই পরীক্ষায় দেখা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা কঠিন কোনো সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে কীভাবে সমাধান করতে পারে এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার জন্য কীভাবে পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে।
পিআইএসএ পরীক্ষা প্রতি তিন বছর পরপর নেয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)। বিশ্বজুড়ে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দক্ষতা যাচাই করাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। গত ৮ সেপ্টেম্বর পিআইএসএ ২০২৫-এর ফল প্রকাশ করা হয়। এবারের পরীক্ষায় রেকর্ড ৯১টি দেশ ও অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ২০২২ সালের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৮১টি দেশ ও অঞ্চল।
এবারের পরীক্ষায় বিজ্ঞানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণিত ও পড়ার দক্ষতাও যাচাই করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কীভাবে শেখে এবং সমস্যা সমাধান করে, সেটিও পরীক্ষায় দেখা হয়েছে। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও পড়ার দক্ষতায় চীন ও সিঙ্গাপুর সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। গণিত ও বিজ্ঞানে চীন প্রথম এবং পড়ার দক্ষতায় সিঙ্গাপুর প্রথম হয়েছে।
এ ছাড়া এস্তোনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ম্যাকাও, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য, এই তিন বিষয়েই বিশ্বের সেরা ১০টি শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। সিঙ্গাপুরের এই সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্ট্রেইট টাইমস’ও দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার এই সাফল্যের প্রশংসা করেছে। কম্পিউটার ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের নতুন বিভাগে ম্যাকাও প্রথম হয়েছে। এই পরীক্ষায় দেখা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের সাহায্যে তথ্য বিশ্লেষণ করে কতটা ভালোভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারে।
পিআইএসএ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক অভিভাবক এখনও মনে করেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান শুধু তাদের জন্য দরকার, যারা ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। কিন্তু পিআইএসএ বলছে, এই ধারণা ঠিক নয়। কম্পিউটার শেখার সবচেয়ে বড় সুবিধা শুধু কোড লেখা নয়। বরং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান ও চিন্তা করার দক্ষতা বাড়ে। যেমন, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা, কোনো বিষয় বা ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজে বের করা এবং বড় ও কঠিন সমস্যাকে ছোট ছোট সহজ অংশে ভাগ করে সমাধান করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি ও তথ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে এসব দক্ষতা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পিআইএসএ ২০২৫-এর ফলাফলে দেখা গেছে, অনেক উন্নত দেশে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, পড়ার দক্ষতা ও গণিতের ফল আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। গত ১০ বছরে বিজ্ঞানের ফল ধীরে ধীরে কমেছে। তবে ২০১৮ সালের পর গণিতের ফল আরও দ্রুত ও বড় আকারে কমে গেছে। অর্থাৎ, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় বিজ্ঞান, পড়াশোনা ও গণিতে দুর্বল ফল করছে।