নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভ সোসাইটি (CIS) ও ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট (DCHT)। বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে ত্রিশূলি বাজারের ১ নম্বর মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টারের ফিল্ড হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর করেছে সংগঠন দুটির একটি দল।
নেপালে অবস্থানরত CIS ও DCHT দলের সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা জানান, বন্যার মতো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিশু, বয়স্ক, নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। দুর্যোগের কারণে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হলে এসব রোগীর শারীরিক জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হস্তান্তর করা সামগ্রীর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও রক্তে অতিরিক্ত চর্বিজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে। পাশাপাশি বন্যার পর সাধারণত দেখা দেওয়া সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও সরবরাহ করা হয়েছে।
বন্যার পানির কারণে সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্যানিটারি প্যাড, মাস্ক, জীবাণুনাশক সাবানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে এসব সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্যোগের সময় দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ফিল্ড হাসপাতালগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এসব হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্মুখসারিতে থেকে বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, দুর্যোগের সময়ে মানবিক সহায়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। CIS ও DCHT-এর এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালের বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকরভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।