নিট প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই যন্তর-মন্তরের আন্দোলন শেষ হয়নি।
বরং প্রশ্ন ফাঁস এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে অভূতপূর্ব নাগরিক সচেতনতা শুরু হয়েছে। এখন বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয় ও স্থানীয় নানা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আসছে।
প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে এবং পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে এবার আন্দোলনে নেমেছে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থীরা। মূলত ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের বিরুদ্ধেই তাদের আন্দোলন।
'জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ'এর ব্যানারে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে টানা ১৬ দিন ধরে এই লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো এই আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে ৭ দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজ্য সরকার শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটি এরইমধ্যে ৫ বার আন্দোলনকারীদের সাথে বসেছে।
শনিবার আলোচনার অগ্রগতি জানানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনকে। আজ রবিবার আন্দোলনকারীদের সাথে ষষ্ঠ দফা আলোচনায় বসার কথা। তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নেয়া পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অচলাবস্থা কাটেনি। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাও করার আলটিমেটাম দিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা এই বিতর্কিত পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিআইডির তদন্তে অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া যায়। কিন্তু রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে দ্বিতীয় একটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষাকে ক্লিন চিট দেয়, যা পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের পর থেকে হওয়া সমস্ত বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছেন। আন্দোলনকারীরা পুরো নিয়োগ কেলেঙ্কারির পেছনে থাকা ’পরীক্ষা মাফিয়া’ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি-র মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়াটি ঝাড়খণ্ডের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারকদের একটি স্বাধীন প্যানেল দ্বারা তদারকি করার দাবিও জানানো হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য সুনির্দিষ্ট কাট-অফ মার্কস, ওএমআর শিটের অনুলিপি এবং রেসপন্স শিট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঝাড়খণ্ডের পরীক্ষাগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট এবং স্বচ্ছ বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।
আলোচনার জন্য সরকার গঠিত কমিটির সদস্য এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানিয়েছেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় শিক্ষার্থীদের যে সমস্ত মতামত ও দাবি সামনে এসেছে, তা আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি বলেন, তাদের উদ্বেগগুলো যৌক্তিক এবং শীঘ্রই একটি সমাধান বের হবে। দীপিকা পান্ডে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চমৎকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যৌক্তিক উদ্বেগ তুলে ধরেছে। সরকার সেগুলো সমাধান করতে প্রস্তুত। আমাদের শুধু একটু অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে পরবর্তীতে কী ঘটে।’