প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
(ভিজিট : ২৪)
ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীর অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন।
আদালত আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম।
এর আগে গত ২১ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে বিচারক ছুটিতে থাকায় সেদিন কোনো আদেশ না দিয়ে ৩ আগস্ট নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।
সেদিন কারাগার থেকে মতিউর রহমানকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হলেও বিচারকের অনুপস্থিতির কারণে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। পরে হাজতখানায় রাখা শেষে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান তার সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
যেভাবে আলোচনায় আসেন মতিউর
২০২৪ সালের কোরবানির ঈদের সময় ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় মুশফিকুর রহমান ইফাতকে মতিউর রহমানের ছেলে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হলে বিষয়টি দেশজুড়ে ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়।
এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ২০২৪ সালের ৪ জুন দুদক তার এবং পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ (ক্রোক) করা হয়।
অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এখন মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারপর্বে প্রবেশ করলো। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।