বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় চার শতাংশেরও বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এ পতন দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় তেলের দামে এই বড় পতন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কমলো দুই ধরনের তেলের দামই
সোমবার বিশ্ববাজারে সেপ্টেম্বরে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমেছে।
এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে কতটুকু পেট্রোল মেলে?
এছাড়া, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ১০ ডলারে। এই তেল আগামী অক্টোবর মাসে ডেলিভারি দেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারে তেলের লিটার কত টাকা?
আন্তর্জাতিক বেচাকেনায় প্রতি ব্যারেলে সাধারণত ১৫৮ দশমিক ৯৮ লিটার তেল থাকে। তার সঙ্গে, মার্কিন ডলারের দাম ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে সোমবারের বাজারদর অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০ হাজার ৩৪৪ টাকা প্রায়। তাতে প্রতি লিটারের দাম পড়বে ৬৫ টাকার মতো।
একইভাবে, ডব্লিউটিআই তেলের দাম পড়বে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং প্রতি লিটার ৬২ দশমিক ৫৮ টাকা।
যে কারণে কমলো তেলের দাম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। সম্প্রতি দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর আবারও প্রাণঘাতী হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি বিবেচনায় তেলের বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যোগ হয়েছিল।
তবে রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
তার দাবি, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি হওয়ায় হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাইয়্যেদ মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্য মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও ইরান প্রতিটি হুমকিকে বাস্তব হিসেবে বিবেচনা করে।