দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি সমাজের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, শাস্তির বদলে ‘পথভ্রষ্ট’ তরুণদের সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করতে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে, তা দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখেছে। কিছু পথভ্রষ্ট তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। তারা আমাকে গালি দিয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও অপমান করেছে।’
সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় মোদিকে উদ্দেশ করে অশালীন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক ২৫ বছর বয়সী নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
তবে এ ঘটনার পরও প্রতিশোধ বা কঠোর শাস্তির পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন মোদি। তার ভাষায়, ‘গালি দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাতে হবে। আসুন, আমরা একসঙ্গে ভারতের জন্য কাজ করি।’
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় মানুষ ভুল করে, আবার সেই সময়ই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকে। তরুণদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। সমাজে ক্ষোভ রয়েছে, আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এসেছে এসব সন্তানকে আপন করে নিয়ে তাদের সঠিক পথ দেখানোর। আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজের কাছেও আমার আহ্বান, আপনারাও তাদের ক্ষমা করুন।’
এদিকে এ ঘটনায় প্রথমে উত্তর প্রদেশের নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়। পরে তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার শান্তিভঙ্গে উসকানি, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং মানহানিসংক্রান্ত ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। তার মতে, কেবল আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।