দেশে গত ১২ থেকে ১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি না হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিত কয়েকজন শিল্প উদ্যোক্তার মধ্যেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
আজ রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসএমই ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তারাই আরও বড় হয়েছেন, আর নতুন উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। এর অন্যতম কারণ ছিল দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় দেশে আয় বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আয় বৈষম্য সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানও আগের তুলনায় আরও বৈষম্যমূলক হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এ অবদান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য মেন্টরশিপ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যেসব শিল্প পার্কে প্লট বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কম জ্বালানি ব্যবহারকারী শিল্পে বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।
এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। এছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার এবং বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।