প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৯ পিএম (ভিজিট : ২৩)
বর্তমান বাস্তবতায় বিভিন্নভাবে চাপ, প্রভাব ও অনাকাঙ্ক্ষিত নির্দেশনার কারণে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও জনবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)।
এজন্য একটি স্বাধীন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এ সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিএএসএ সভাপতি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে যা গণমুখী ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন স্বাগত জানায় জানিয়ে এতে বলা হয়, অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রশাসন ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তার ওপর বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে তাদের পেশাদারত্ব বিনষ্ট করেছে। দেশের উত্তম প্রশাসনে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের এ প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাত ও অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত থাকতে হবে। উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মতো একটি আধুনিক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন কাঠামো গঠন এখন সময়ের দাবি।
‘বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনকে তার পেশাগত স্বাধীনতা ও আইনসম্মত দায়িত্ব পালনে বিভিন্নভাবে চাপ, প্রভাব ও অনাকাঙ্ক্ষিত নির্দেশনার মুখোমুখি হতে হয়। এটি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও জনবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
এ পেক্ষাপটে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন একটি স্বাধীন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কমিশন’ গঠনের দাবি করছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ কমিশনের আদলে এটা প্রশাসনের জন্য একটি স্বাধীন আইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হবে। এ কমিশন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ইত্যাদি নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করবে। কমিশন তার পেশাদারত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের দ্বারা গঠিত হবে।