শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১ ১১ আষাঢ় ১৪২৮
 
শিরোনাম: তবুও ঢাকামুখী মানুষের ঢল        যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত: ফরহাদ হোসেন       চলচ্চিত্রে পরিমণির নিষিদ্ধের গুঞ্জন!        সারাদেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউনের’ সুপারিশ        দেশে আক্রান্ত আরও বাড়ল, মৃত্যু ৮১        চামড়া সিন্ডিকেট রোধে নজরদারি করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       চারটি আইনে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর      


আর্সেনিক দূষণ: প্রসঙ্গ বাংলাদেশ
গাজী শরীফা ইয়াছমিন
প্রকাশ: বুধবার, ২ জুন, ২০২১, ৩:২৬ পিএম আপডেট: ০২.০৬.২০২১ ৩:৩৫ পিএম |

আর্সেনিক প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট স্বাদ ও গন্ধহীন মৌলিক পদার্থ। এটি একটি অর্ধ ধাতু বা উপধাতু এবং অত্যন্ত বিষাক্ত। প্রকৃতিতে আর্সেনিক বহুরূপে বিরাজ করলেও শুধুমাত্র এর ধূসর বর্ণেও ধাতব ধর্মেও কারণে শিল্পক্ষেত্রে এই রূপটিই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক অবস্থায় বায়ু, মাটি ও প্রাণিদেহে অতিসামান্য পরিমাণে আর্সেনিক বিদ্যমান। 

আর্সেনিকযুক্ত পানি স্বাদহীন, বর্ণহীন এবং গন্ধহীন। আর্সেনিক বিষক্রিয়া বলতে বোঝায় আর্সেনিক বাহিত রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী ১ লিটার পানিতে ১০ মাইক্রো গ্রাম আর্সেনিক থাকলে তা দূষিত পানি। বাংলাদেশের মান অনুযায়ী ১ লিটার পানিতে ৫০ মাইক্রো গ্রাম আর্সেনিক থাকলে সেই পানি অনিরাপদ বলা হয়ে থাকে। আর্সেনিক আছে এমন নলকূপের পানি পান করলে বা রান্নার কাজে ব্যবহার করলে আর্সেনিক জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে, পানি ও খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এবং ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হয়ে আর্সেনিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ গবেষক দলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন উৎস থেকে আর্সেনিকযুক্ত পলি বদ্বীপ ও পলল সমভূমি অঞ্চলে জমা হয়। যেখানে আর্সেনিকের প্রধান বাহক হলো আয়রন অক্সিহাইড্রোক্সাইড নামের একটি খনিজ। পরবর্তীতে পলির সাথে সঞ্চিত হয়ে জৈব পদার্থ কর্তৃক অক্সিজেন আহরণের ফলে পানি বা হীশিলাস্তরে বিজারিত অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আয়রন অক্সিহাইড্রোক্সাইডের মধ্যে সংযোজিত আর্সেনিক ও আয়রণ, ভূগর্ভস্থ পানিতে তরল অবস্থায় আর্সেনিক ছড়িয়ে পড়ে।

আর্সেনিক দূষণের আরেকটি প্রধান উৎস কীটনাশক হিসেবে আর্সেনিকের প্রয়োগ। উচ্চচাপ যুক্ত  স্প্রেও ব্যাপক ব্যবহার শুধু মাটি ও গাছ পালার দূষণই ঘটায় না, পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাতাস ও ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানিকেও দূষিত করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে আর্সেনিক ছিটানো পরিত্যক্ত তুলা ক্ষেত পোড়ালেও  বায়ু দূষণ ঘটে। ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণের প্রধান প্রধান উৎস হচ্ছে গার্হস্থ্য ও কলকারখানার বর্জ্য পানি, কাঠের বৈদ্যুতিক খুঁটি, খনি থেকে অবর ধাতু (Base metal) উত্তোলন ও নিষ্কাশন এবং দূষিত অ্যারোসলের প্রতিক্রিয়া।

বাংলাদেশের আর্সেনিক সমস্যা বলতে বোঝানো হয় বাংলাদেশের অভ্যন্তওে বিভিন্ন অঞ্চলে খাবার পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত হার। স্বল্প পরিমাণে আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। পুরোপুরি দেহে ছড়িয়ে যেতে কয়েক বছর সময় লাগে। জ্বর, বমি, মাথা ব্যথা, শরীরে অস্বাভাবিক ব্যথা, রক্ত আমাশয় এবং উদরাময়কে এ রোগের লক্ষণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত  রোগীর গায়ে কালো কালো দাগ দেখা দেয় বা চামড়ার রং কালো হয়ে যায়। গায়ের চামড়া, হাত ও পায়ের তালু শক্ত খসখসে হয়ে যায় এবং ছোটছোট শক্ত গুটির মতো দেখা দিতে পাওে যা ধীওে ধীওে কালো হয়ে যায়। পরবর্তীতে চামড়ার বিভিন্ন জায়গায় সাদা, লাল বা কালো দাগ দেখা যায়। হাত ও পা ফুলে ওঠে এবং হাত ও পায়ের তালু ফেটে শক্ত গুটি ওঠে। সবশেষে কিডনি, লিভার, ও ফুসফুস বড় হয়ে যায় ও টিউমার হয়। 

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে  নবাবগঞ্জ সদর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্ব প্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে। ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পশ্চিম বঙ্গেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে (School of Environmental Sciences–SOES/ এস.ও.ই.এস) অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এরপর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বি.ডব্লিউ.ডি.বি)-এর গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের ভিতওে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ অনুসন্ধান করা শুরু করে। এরপর ২০০১ সালে ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে বাংলাদেশের ৬১টি জেলার নলকূপের পানি পরীক্ষা করে জানায় যে ৪২% নলকূপের পানিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে বেশি (২৫% নলকূপের পানিতে বাংলাদেশের মানের চেয়ে বেশি) মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। দিনে দিনে যা ব্যাপক আকার ধারণ কওে চলেছে।

২০১০ সালে ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে জানা যায় যে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। পানিতে কী পরিমাণ আর্সেনিক আছে এবং একজন ব্যক্তি কতদিন যাবৎ এই পানি পান করছেন, তার উপর মৃত্যু ঝুঁকি নির্ভও করে। আর্সেনিকের বিষক্রিয়া মৃত্যুও প্রধান কারণ না হলেও তা মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনের মোট আর্সেনিক গ্রহণ ও প্রস্রাবে আর্সেনিকের পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। পানিতে আর্সেনিক বেশি থাকলে মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে করা এ গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের কারণে সাধারণ রোগে গড়ে মৃত্যু ঝুঁকি ২১%, এবং দীর্ঘ স্থায়ী রোগে মৃত্যু ঝুঁকি ২৪% বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, আর্জেন্টিনা, তাইওয়ান এবং বাংলাদেশের চাঁদপুরের মতলবে ল্যানসেটের পূর্বে করা বিভিন্ন গবেষণায়, দীর্ঘ স্থায়ী রোগে মৃত্যু হার বৃদ্ধিতে আর্সেনিকের সম্পৃক্ততার ব্যাপারটি  পাওয়া গিয়ে ছিলো। প্রতিলিটার পানিতে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক পান করার ফলে ক্রনিকডিজিজ, যথা ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়বেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঝুঁকি ৬৪% বেড়েছে। সাধারণ রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়ে প্রায় সমপরিমাণে। গবেষকদের মত, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান না করলে এই মুত্যু কম হতো।

ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক মাত্রা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে সাধারণত দুটি পৃথক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রথমটির নাম ‘ফিল্ডকিটমেথড’। এটি গুণগত থেকে আধা-পরিমাণগত ধরনের একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষিত পানিকে নিরাপদ ও অনিরাপদ - এ দুটি প্রকরণে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো গবেষণাগারের বিশ্লেষণ।

 এটি সম্পূর্ণভাবেই পরিমাণগত এবং এতে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের সঠিক পরিমাণ জানা যায়। ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফিল্ডকিট ও ল্যাবরেটরি উভয় পদ্ধতিতেই ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাপক নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জনগণের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ‘নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা-১৯৯৮’ এবং ‘আর্সেনিক প্রশমনে জাতীয় নীতিমালা-২০০৪’ প্রণয়ন করে। বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানি বিশ্লেষণে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম) উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রেখেছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ইত্যাদিও মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ শনাক্তকরণ ও প্রশমনের ক্ষেত্রে সরকার ও এনজিও গুলিকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। 

বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ সংক্রান্ত এযাবত সবচেয়ে ব্যাপক ও রীতিবদ্ধ জরিপটি পরিচালিত হয়েছে ১৯৯৮-৯৯ সালে ব্রিটিশ জিওলজিক্যালসার্ভে এবং মটম্যাকডোনাল্ড লিমিটেড-এর যৌথ সহযোগিতায় সরকারের জন স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক। আর্সেনিকের ওপর কেন্দ্রীয়ভাবে উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ ও দূষণ প্রশমনের কৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়ে ‘বাংলাদেশ আর্সেনি কমিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট’ (বিএএমডব্লিওএসপি) চালু করা হয়ে ছিলো। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৭০টি উপজেলার প্রায় ৫০ লাখ নলকূপ পরীক্ষা করা হয়েছে যার মধ্যে ২৭% নলকূপে বাংলাদেশ মান মাত্রার উপরে আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের অন্যান্য এলাকা প্রায় ১৯০টি উপজেলায় জরিপ করেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এক হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসাবে গ্রামীণ জনপদে আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের জন্য এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্পূণর্ বিনামূল্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নলকূপের পানি পরীক্ষা কওে থাকে। একজন আর্সেনিক আক্রান্ত ব্যক্তি ছয় মাস আর্সেনিকযুক্ত পানি না পান করলে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আর্সেনিক আক্রান্তদেও চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। 

এছাড়াও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের ৩০টি জেলার ৯৮টি উপজেলায় করোনা মহামারির সংক্রমণ রোধে স্কুল-কলেজসহ গণজমায়েত হয় এমন স্থানের আশেপাশে হাতধোয়ার স্টেশন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় শুধু হাত ধোয়ার স্টেশন নির্মাণই নয়, এর পাশাপাশি আর্সেনিক ও আয়রনের সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের নির্বাচিত গ্রামগুলোতে কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকারের সহযোগিতায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহের স্কিম বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ৮৮২ কোটি ৫৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে কৃষিখাতে পানি ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে পানি সমস্যার সমাধানে আট হাজার ৮৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় ২৯ হাজার ৫৭০টি আর্সেনিক আয়রন রিমুভালপ্ল্যান্ট (ভ্যাসেলটাইপ) স্থাপন করা হবে।

২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যানরাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) এর ‘নেপোটিজম অ্যান্ড নেগলেক্ট: দ্য ফেইলিংরেসপন্স টু আর্সেনিক ইন দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার অফ বাংলাদেশ' সরুরালপুওর' শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিক দূষণের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জানায় যে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো প্রায় দু'কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষিত পানি পান করছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য দিয়ে হিউম্যানরাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বেও সবচেয়ে বড় ‘গণ বিষের’ উদাহরণ বাংলাদেশের আর্সেনিক পরিস্থিতি। 

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও শেরপুর ব্যতীত বাকী ৫৯ জেলায় আর্সেনিক দূষণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন ১১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ যার ভিতর সিলেট বিভাগের ৪০ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ৩১ শতাংশ। 

সুতরাং আর্সেনিক প্রশমন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এই দুই বিভাগে জোর দিতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) এর ৬নং লক্ষ্যমাত্রা নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সকলের জন্য পরিবেশবান্ধাব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর্সেনিক বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি এই উদ্যেগ্যে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগের প্রয়োজন। এছাড়া নলকূপের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা ও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। গণসচেতনা সৃষ্টিতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা, পাঠ্য পুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা, মসজিদের খুতবায় অন্তর্ভূক্ত করার উদ্যোগ করতে হবে। 

 (পিআইডি-শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম বিষয়ক ফিচার)









প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (১০তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]