বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৪ মাঘ ১৪২৭
 
শিরোনাম: সহিংসতা-প্রাণহানিতে ভোট       চসিক নির্বাচন: এগিয়ে নৌকার রেজাউল       টিকা সবাইকে দিয়ে নিই, তারপর নেব: প্রধানমন্ত্রী       ৪০তম বিসিএসের ফল প্রকাশ       সমালোচনাকারীদের আগে ভ্যাকসিন দেবো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী       যে ৫ জন প্রথমে নিলেন করোনা টিকা       দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫২৮      


সাবেক কমিশনারের অফিস থেকে বাড্ডা প্রকল্পের ৭১টি নথি উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৩:৪৮ পিএম |

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর বাড্ডা পুনর্বাসন প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের ৭১টি প্লটের নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিল, সিটি করপোরেশনের ভুয়া প্রত্যয়ন পত্র, পর্ন সিডি উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজউকের অ্যানেক্স ভবনের ৫১৪ নম্বর কক্ষ থেকে রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে নথিগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় তার সঙ্গে পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, কক্ষটি ১৯৮৬ সলের ১ মার্চ মেসার্স পলি ওভারসিজ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে মাসিক ১৫ হাজার ৮২০ টাকা হারে ফজলুল হক নামে একজন বরাদ্দ নেন। এই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্ষটির ভাড়া পরিশোধিত রয়েছে। তার কাছ থেকে কালোর্স ট্রেড লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কক্ষটি ভাড়া নেয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এম এ কাইয়ুম। তিনি মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও অখণ্ড ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনির। দেশে অবৈধ সোনা আমদানির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

রাজউক কর্মকর্তার জানান, রাজউকের বাড্ডা প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্লটগুলো নিজেরা ভাগিয়ে নিয়ে তা অন্যদের কাছে বিক্রি করতো তারা। এই দুই ব্যক্তি রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ফাইলগুলো রাজউকের কেন্দ্রীয় স্টোরে না রেখে তাদের অফিসে রাখতেন। সেখানে কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ক্ষতিগ্রস্থদের প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করতেন। তবে ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় বর্তমানে কমিশনার কাইয়ুম দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজউকের অভিযানের সময় ওই কক্ষ থেকে পারভেজ নামে একজন কর্মচারীকে পাওয়া গেছে। তিনি জানান, অফিসটি সাবেক কমিশনার কাইয়ুম ও গোল্ডেন মনিরের ছিল। তাদের লোকজন এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গোল্ডেন মনির সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের ভাগিনা। তারা বিভিন্নভাবে প্রকল্পের নথিগুলো নিয়ে এসে জালিয়াতির মাধ্যমে জাল কাগজপত্র সাজাতেন। অভিযানে কাউন্সিলর কাইয়ুমের ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ফাইলও উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি এভাবে রাজউকের বিভিন্ন ফাইল গায়েব করে ফেলতো। অথচ এই ফাইলগুলো থাকার কথা রাজউকের কেন্দ্রীয় রক্ষণাগারে।

জানতে চাইলে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চেয়ারম্যান ওই ফ্লোরে অভিযান চালান। তখন অফিসটিতে ঢুকে তিনটি কক্ষের মধ্যে একটিতে আমাদের বাড্ডা প্রকল্পর প্রায় ৭১টি নথি পাওয়া গেছে। সেখানে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সিলও পাওয়া গেছে। বাড্ডার সাবেক একজন কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন পত্রের একটি বই পাওয়া গেছে। যেখানে ফাঁকা বইতে ব্যাক-ডেটে সই রয়েছে। প্রত্যয়নটি যখন যার জন্য প্রয়োজন হতো, তার জন্য ব্যবহার করা হতো।

রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ওই রুমগুলো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া ছিল। আমরা তাদের রুমটি ছেড়ে দিতে বলি। কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় আমরা রায় পেয়েছি। পরে আদালত তাদের অফিস সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৬ মাস সময় দিয়েছেন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি, সেখানে এরকম কিছু ঘটনা ঘটছে। পরে আমি আমাদের শীর্ষ অফিসারদের নিয়ে অভিযান চালাই। তিনটি কক্ষের একটিতে আমাদের বাড্ডা প্রকল্পের ৭১টি ফাইল পেয়েছি। যেগুলো বিগত কয়েক দিনের মধ্যে অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু ফাইলগুলো তো তাদের কাছে থাকার কথা নয়। এগুলো আমাদের সংশ্লিষ্ট স্টোরে থাকার কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফাইলগুলো সেখানে কেন গেলো, কীভাবে গেলো এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটা নির্ধারণ করার জন্য আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (১০তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]